কাহিনী ও গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কাহিনী ও গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০২৪

ভয়ঙ্কর ফাঁদ : একটি পিলে চমকানো প্রতারণার গল্প


বার নাবিলা ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ায় কিছুদিন ধরে সে একটি মেসে উঠেছে। সে গ্রামের মেয়ে। খুবই মেধাবী আর সহজ-সরল হৃদয়ের অধিকারী। গ্রামের সাধারণ নারী-পুরুষ জানেনা ঢাকার ইট-পাথরের দালানে থাকা মানুষদের হৃদয় কতটা পাষাণ, ধূর্ত আর ভয়ঙ্কর। নাবিলা নিয়মিত ভার্সিটিতে ক্লাস করে। তার মেসটা ভার্সিটি থেকে সামান্য দূরে। তাই সে পায়ে হেঁটেই ভার্সিটিতে আসা-যাওয়া করে।


একদিন নাবিলা ভার্সিটিতে যাওয়ার পথে দেখে রাস্তার পাশে একটি শিশু চিৎকার করে কাঁন্নাকাটি করছে কিন্তু তাকে কেউ কোনকিছু জিজ্ঞেস করছে না বা তাকে তার অভিভাবকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে না। এটা দেখে সে খুবই মর্মাহত হয় এবং শিশুটির কাছে এগিয়ে যায়। তারপর শিশুটিকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কান্না করছ কেন? তোমার বাবা-মা কোথায়? শিশুটি রাস্তার বিপরীত পাশের একটি ছোটমতো বিল্ডিং দেখিয়ে বলে ওটাই আমাদের ঘর, আমি রাস্তা পার হতে পারছি না,দয়াকরে আমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিন। 


নাবিলা শিশুটিকে নিয়ে রাস্তা পার হয়ে তার বাড়ির দিকে চলল শিশুটিকে তার পিতা-মাতার কাছে পৌছে দিতে। দরজার কাছে গিয়ে সে নক করে। কিছুক্ষনের মধ্যেই দরজা খুলে যায় এবং একটি মধ্য বয়স্ক লোক দরজা খুলে মুখে বিরক্তি ভাব ফুটিয়ে ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠে কোথায় ছিলে বাবা এতক্ষণ? তোমার জন্য আমি পেরেশান হয়ে আছি!


তারপর নিজেকে যেন একটু সামলে নেয় এবং নাবিলাকে বলেÑ আপনি আমাকে বড়ই উপকার করলেন। এ ঋণ আমি কখনোই শোধ করতে পারবো না। এজন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ! আসুন, আসুন ভেতরে আসুন! একটু চা-নাস্তা করে যান। একথা বলেই ভেতরের দিকে রাওয়ানা দেয়। নাবিলা ভেতরে যেতে ইতস্তত বোধ করছে। লোকটি ঘাড় ফিরিয়ে নাবিলার দিকে তাকিয়ে বলে, আরে আপনি আমার উপকার করলেন আর আমি একটু চা-নাস্তাও করাতে পারবো না তা কি হয়! আসুন, আসুন অন্তত একটা চা খেয়ে যান। গ্রামের সহজ-সরল মেয়ে নাবিলা লোকটির অনুরোধ আর ফেলতে পারে না। কিন্তু সে জানেনা, ভেতরে প্রবেশ করলে কী ভয়ঙ্কর পরিস্থি তার জন্য অপেক্ষা করছে!


সে ঘরে প্রবেশ করে সোফায় গিয়ে বসে। ইত্যবসরে বাইরে থেকে কেউ একজন এসে দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। দরজা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে লোকটি ফিক করে হেসে উঠে। লোকটির হাসি দেখে নাবিলার শরীরটা ভয়ে শিউরে উঠে। সে দৌড়ে গিয়ে দরজার হাতল ধরে টান দেয়। কিন্তু না, সে খুব দেরী করে ফেলেছে। লোকটি বলে উঠে, টানাটানি করে লাভ নেই, দরজা বাইরে থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। 


তারপর বলল, আপনার কাছে যা আছে সব বের করুন। এই বলে লোকটি এগিয়ে এসে তার হাতব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। এরপর ব্যাগের ভেতর থেকে মোবাইল এবং টাকা পয়সা যা ছিল সব নিয়ে নেয়। তারপর লোকটির চোখেমুখে শয়তানী হাসি খেলে গেল। নাবিলা এটা বুঝতে পেরে চিৎকার করে বলে উঠল, না! না! এমনটি করবেন না, প্লিজ! আমাকে ছেড়ে দিন ! ছেড়ে দিন! কিন্তু কে শোনে কার কথা, লোকটি নাবিলার হাত ধরে টানতে টানতে বিছানায় নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল।


রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০২৪

সেদিন স্বাক্ষী ছিল বৃষ্টি ! – একটি মর্মান্তিক গল্প



“তাড়াতাড়ি ভাত দাও তো! আজ মাঠে অনেক কাজ করতে হবে”- হাত-মুখ মুছতে মুছতে বলল বাদল।

“তুমি টেবিলে গিয়ে বস, আমি এখনই ভাত বেড়ে দিচ্ছি” বলল তার স্ত্রী নাজমা।

বাদল আর নাজমার সংসার প্রায় দুই বৎসর হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাদের মুহব্বতে কোন ভাটা পড়েনি। আজকের যুগে স্বামী স্ত্রীর এমন বন্ধন প্রায় দেখাই যায় না। তাই তো তাদের দুজনের ভালোবাসা দেখে গ্রামের অনেকেই ঈর্ষা করে। কিন্তু কথায় আছে না- ‘এই দুনিয়ায় কেউ চিরসুখী হতে পারে না, কোন না কোন দিক দিয়ে অপূর্ণ থেকেই যায়’। তেমনি একটি দুঃখ তাদের রয়েই গেছে। এখনও তারা সন্তানের মুখ দেখতে পারেনি। চেষ্টাও কম করা হয়নি। কিন্তু বিধাতার ইচ্ছা না থাকলে চেষ্টায় কি আর সব হয়? তারপরও তারা বেশ সুখেই আছে। 

বাদল লেখাপড়ায় মন বসাতে পারেনি। তাই সে ছোট থেকেই বাবার গৃহস্থের কাজ কর্ম দেখাশুনার দায়িত্ব নিয়েছে। পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া জমির পরিমাণও বেশ ভালই। তাই গৃহস্থ করেও বেশ সুখেই দিনগুলো পার হয়ে যাচ্ছে। 

গত পাঁচ-সাতদিন যাবত বৃষ্টির দেখা নেই। তাই আজ সবগুলো ফসলের জমিতে পানি দিতে হবে। তাই সে আজ খুব সকাল সকাল খাবার খেয়ে বেড়িয়ে পড়ার জন্যই স্ত্রীকে তাড়া দিচ্ছে। 

বাদল হাত-মুখ মুছে টেবিলে বসতেই তার স্ত্রী ভাত ও তরকারির ডিস নিয়ে, প্লেটে ভাত ও তরকারি উঠিয়ে দিচ্ছে। বাদল ভাত খাওয়া আরম্ভ করতেই দেখাগেলো রোদ কেমন ফিকে হয়ে আসছে। তারপর দেখতে দেখতে ঝকঝকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে ক্রমেই চারদিকে অন্ধকার নেমে এলো। বাদলের খাবার শেষ হতে না হতেই ঝুম ঝুম করে বৃষ্টি পড়া শুরু হলো। এই দৃশ্য দেখে বাদল প্রশান্ত মনে বলে উঠলো- ভালোই হলো! অনেক খাটুনি থেকে রেহাই পেয়ে গেলাম। চেয়ারটা দরজার কাছে এনে সে বৃষ্টি উপভোগ করতে লাগলো। তার স্ত্রী হাত-মুখ ধুয়ে তার পাশে এসে বসল। 

বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে বাদল আনমনা হয়ে গেলো, যেন গভীর চিন্তায় নিমগ্ন। এই বৃষ্টি শুরু হলে মানুষের মনে কত ভাবনারই না উদয় হয়! সেও হারিয়ে গেলো ছোটবেলার হাজারও স্মৃতির পাতায়। হাঠাৎ কি এক কথা মনে করে মনের অজান্তেই হো হো করে হেসে উঠলো। নাজমা তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। বাদলের হাসিতে তার তন্দ্রা ভেঙে গেলো। 

: “এভাবে হেসে উঠলে কেন?” 

: “ইয়ে মানে, এমনিতেই”- এই বলে বাদল কিছু একটা লুকানোর চেষ্টা করছে। 

নাজমা আরও সন্দিহায় হয়ে উঠলো, সে ভাবলো হয়তো তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পাড়ায় তার চেহারা বিকৃত হয়ে পড়েছিল অথবা কাপড় চোপড় হয়তো অসাবধান হয়ে পড়েছিল, আর তা দেখেই বোধহয় বাদল হেসে উঠেছে। তাই নাজমা তাকে আরও ভালো করে জেরা শরু করলো।

“কি এমন হয়েছে যে, এত শব্দ করে হেসে উঠলে, এমনিতেই কি মানুষ হাসে? আমাকে বলো না প্লিজ…

কিন্তু বাদলের কোন উত্তর নেই। 

“এই তুমি এখনো চুপ করে আছো কেন? হ্যা! কি হয়েছে..

বাদল আর চুপ থাকতে পারলো না। সে আর বলো না, এই বৃষ্টি দেখতে দেখতে অতীতের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। 

কি ঘটনা? বলো তো একটু শুনি: অনুনয় ঝড়ে পড়লো নাজমার গলায়।

বুঝতেই তো পারছো, ঘটনাটা বলতে চাচ্ছিলাম না। কিন্তু যেহেতু তুমি খুব করে বায়না করছো তাই বলছি। তবে সাবধান! এই কথা আর কারো সাথে শেয়ার করবে না, বলে দিলাম।

একথা শুনে নাজমার মনোযোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেলো। উদগ্রীব শুনতে লাগলো- কী সেই ঘটনা?

বাদল বলতে লাগলো- পাশের বাড়ির পলাশ আর আমার মাঝে ব্যাপক বন্ধুত্ব জমে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন খেলতে গিয়ে তার ও আমার মাঝে ঝগড়া তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করতে থাকি। কিন্তু এই ঘটনা দূর থেকে তার বড়ভাই দেখে ফেলে। তাই সে দৌড়ে কাছে এসে আমাকে ধরে  ফেলে এবং প্রচন্ডভাবে প্রহার করে। শুধু তাই নয়, সে আমার দুই হাত ধরে পলাশকে ইচ্ছামতো মারতে বলে। তখন পলাশ আমাকে অনেকক্ষণ কিল, ঘুষি আর লাথি মারতে থাকে। ইস! কি যে যন্ত্রণা! ভুলাই যায় না। এভাবে অনেকক্ষণ মারার পর পলাশের ভই আমাকে ছেড়ে দিয়ে বলে, এই ঘটনা যদি তোর মা বাবাকে বলে দিস, তবে আরেকদিন দেখাবো মজা! এই হুমকী দেওয়ায় আমি এই ঘটনা মা বাবাকেও বলার সাহস পেলাম না। কিন্তু মনে মনে এই আঘাতের কঠিণ প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম। 

দিন যায় দিন আসে, এক পর্যায়ে তার ও আমার মাঝে আবার বন্ধুত্ব তৈরি হয়। কিন্তু সেই ঘটনা পলাশ ভুলে গেলেও আমি কখনো ভুলতে পারি না। আমার অন্তরে প্রতিশোধের আগুন জ্বলতেই থাকে। কোনভাবেই সেদিনের অত্যাচার ও আঘাতের কথা ভুলতে পারি না। হঠাৎ একদিন আমার মাথায় শয়তান এসে ভর করলো। চিন্তা করলাম পলাশ আমাকে যে পরিমাণ আঘাত করেছে তার জন্য তাকে মরতে হবে, তাকে আমি শেষ করে দেবো। কিন্তু কিভাবে? যদি সবাই জেনে যায় তবে তো আমাকেও মরতে হবে। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম তার ও আমার মাঝে যে সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব বিদ্যমান আছে তা ধরে রাখতে হবে এবং আরো বাড়াতে হবে, যেন মানুষ আমাকে সন্দেহ করতে না পারে। তাই আমি তার সাথে আরো ঘনিষ্ঠ হতে থাকলাম। 


একদিন তাকে বললাম চলো আমরা দুজনে আজ বিকালে চুপি চুপি পাশের জঙ্গলে খেলতে যাবো। তুমি একথা কাওকে বলবে না। সে আমাকে আশ্বস্ত করে বললো ঠিক আছে।

বাড়ি থেকে আমি কাওকে কিছু না জানিয়ে বিকেলে সেই জঙ্গলে এসে হাজির হলাম। কিছুক্ষণ পর সেও এসে উপস্থিত হলো। আশেপাশে কোন জনবসতি নেই। কোন মানুষের আনাগুনাও নেই। তখন শয়তান পুরোপুরি আমাকে আয়ত্বে নিয়ে ফেলেছে।হঠাৎ তার মুখে আমি প্রচন্ড বেগে এক ঘুসি বসিয়ে দিলাম। চিৎকার করে বলে উঠলাম, মনে আছে? সেদিন তোরা দুই ভাই মিলে আমাকে কত মার মেরেছিস? আজ তোকে আর জ্যান্ত ছাড়ছি না। ঘটনায় হতকিত হয়ে সে অনুনয় বিনয় হয়ে বলতে লাগলো? ‍দুস্ত আমাকে মেরে ফেলিস না! তুই আমাকে যত পরস মার, আমি কাওকে কিছু বলবো না। কিন্তু অনুরোধ আমাকে একেবারে মেরে ফেলিস না! আমার জীবনটা ভিক্ষা দে! আমি বললাম, তোকে শায়েস্তা করার জন্য আমি কতদিন যাবত বন্ধুর অভিনয় করে আসছি জানস না। এই বলে তার গলায় ধরে পায়ে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়ে বুকের উপর চেপে বসলাম। সেই সময় শুরু হলো প্রচন্ড বৃষ্টি কিন্তু সেদিকে আমার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। যখন সে দেখলো তার বাঁচার কোনই উপায় নেই তখন সে বলল, হে বৃষ্টির ফোঁটা! তুই ছাড়া আজ আমার কোন স্বাক্ষী নেই। তুই-ই আমার এই হত্যাকারির ব্যাপারে একমাত্র স্বাক্ষী। 

তার করুণভরা সেই চাহনি আর কাকুতি মিনতি চোখে ভেসে উঠলে আজও আফসোস করি, কেন তাকে মেরে ফেললাম? যে আমাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতো, জানের চেয়েও বেশি ভালোবাসতো তাকে জীবনে তরে কেন মেরে ফেলাম? হায় আফসোস!

তার পিতামাতা এই ঘটনার তদন্তে কেস করেছিল। পুলিশ যখনই আমাকে জেরা করতে এসেছে তার পিতা-মাতাই বলেছে তাদের মধ্যে কোন ঝগড়া ছিল না। তারা এখনো একে অপরের প্রাণের বন্ধু। সে আমার ছেলের খুনি নয়। এই বলে তারাই আমাকে পুলিশের সন্দেহ থেকে দূরে রেখেছে। 

প্রথম প্রথম বৃষ্টি হলেই মন আতকে উঠতো, না জানি এই বৃষ্টি তাদেরকে জানিয়ে দেয়! কিন্তু এখন তো এটা ভুলতেই বসেছি। আজ প্রায় দশ বারো বছর হয়ে গেলো, কত বৃষ্টি হলো- কই এই বৃষ্টি তো তাদেরকে কোন স্বাক্ষী দিল না! বৃষ্টি কি আর স্বাক্ষী দিতে পারে? কি বুকাই না ছিল পলাশ! এই বলে হাসতে থাকে বাদল। 

ঘটনা শুনে নাজমার মন প্রকম্পিত হলো। যে মানুষটাকে সে এত সহজ সরল ভেবেছিল - সে ততটা সহজ সরল নয়। তাই সে মনে মনে খুব উদ্বীগ্ন হয়ে উঠলো। কিন্তু বাদলকে তা বুঝতে না দিয়ে উল্টো সে বলে উঠলো- সাবধান এই ঘটনা আর কাউকে বলো না। কেউ জানলে কিন্তু তোমার আর রক্ষা নেই। 

দিন যায়, মাস যায়। একসময় বাদল ও তার স্ত্রীর বন্ধনের মাঝে ফাঁটল তৈরি হলো। কয়েকদিন পর দুইজনের মাঝে প্রচন্ড ঝগড়া বেঁধে গেলো। ঝগড়ার এক ফাকে বাদল হাতে লাঠি নিয়ে নাজমাকে মারতে যায়। তখন নাজমা দৌড়ে গিয়ে পলাশের মায়ের ঘরে আত্মগোপন করে। কিছুক্ষণ পর শুরু হলো বৃষ্টি।

নাজমা আনমনা হয়ে বৃষ্টির দিকে তাকিযে আছে। আচমকা মনে পড়ে যায় পলাশের হত্যার কথা। মহিলা মানুষের দূরদৃষ্টি খুবই কম। কোন কথার কি পরিণতি হতে পারে তা অনেক সময় তারা অনুমান করতে পারে না। সে ভাবলো বাদলকে শায়েস্তা করার মুখ্যম একটা সুযোগ পেয়ে গেছি। কিন্তু সে কি জানে? এই ঘটনা প্রকাশ হয়ে গেলে বাদলের কি পরিণতি হবে? কিন্তু নাজমা এসব ভাবতে চায় না। ভাবখানা এমন যে, মুখ্যম সুযোগটি হাতছাড়া করার কোন মানে হয় না। তাই সে হাঁক ছাড়লো- চাচি! শুনেন একটা কথা কই..

ঘটনা শুনে বৃদ্ধ মহিলা চিৎকা করে কেঁদে উঠলো। সাথে সাথে লোকজন দৌড়ঝাপ করে জড়ো হলো। কি হলো মা? কাদেন কেন দাদি? কি হলো গো চাচি? সবাই এসে ঘটনা জানতে চাইলো। তখন পলাশের মা চিৎকার করে বলে উঠলো- এই বাদল আমার ছেলের খুনি! আমার বাবাকে সে কত কষ্ট দিয়েই না হত্যা করেছে! ওকে ধর, পুলিশে দে! হায় আল্লাহ! তাকে পুলিশের হাত থেকে বাচাঁনোর জন্য কত চেষ্টাই না করেছি! সাথে সাথেই ঘটনা চারদিকে ছাড়িয়ে পড়লো। পুরোনো কেস মামলা আবার সচল হয়ে উঠলো।

কি থেকে কি হলো নাজমা বিশ্বাসই করতে পারছে না। বেচারা বাদলের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ফাঁসির আদেশ দিল। এদিকে নাজমা কাঁদতে কাঁদতে বেহুশ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলো। সবাই ধরাধরি করে তাকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে মাথায় পানি ঢালতে লাগলো। এরই মাঝে চারদিক অন্ধকার করে শুরু হলো বৃষ্টি। হঠাৎ প্রচন্ড শব্দে গর্জে উঠলো আকাশ!


সোমবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৩

এক রাতের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা: শিক্ষনীয় গল্প

 


নাবিল সবেমাত্র ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে উঠেছে তাদের সংসারে সে এবং তার বাবা মা ছাড়া আর কেউ নেই সর্বদা তাদের সংসারে দরিদ্রতারে দৈন্যদশা লেগেই থাকে তার বাবার শারীরিক অবস্থা ইদানিং ভালো যাচ্ছে না তিনি প্রায়ই বুকের ব্যথায় ভোগেন ব্যথা বেড়ে গেলে গ্রামের ফর্মেসী থেকে ঔষধ কিনে খান প্রতিবেশীরা বলেন, বুকের ব্যথা নিয়ে এভাবে বসে থাকলে কী হবে? ভালো একজন ডাক্তার দেখান, নয়তো ব্যথা আরও বেড়ে যাবে কিন্তু তিনি ডাক্তার দেখাতে সাহস পান না এমনিতেই সংসারের যা অবস্থা তাছাড়া ছেলেকেও পড়ার খরচ দিতে হয় এর মধ্যে ডাক্তার দেখাবার টাকা কই এসব চিন্তা করে ব্যথা নিয়েই বসে থাকেন কিন্তু রোগ বলে কথা রোগ তো আর টাকা পয়সা দেখে না চিকিৎসা না নেওয়ায় দিন দিন তার ব্যথা বড়তেই থাকল একদিন ব্যথা এতই বেড়ে গেলো যে বিছানা থেকে উঠতেই পারছেনা এমনকি ঠিকমত কথাও বলতে পারছেন না অবস্থা থেকে নাবিলের মা কান্নাকাটি শুরু করে দিল তার কান্নার আওয়াজ শুনে প্রতিবেশীরা ছোটে আসল সবাই বলল রোগীকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে ভর্তি করান নয়তো অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে তাই দ্রুত এম্বুলেন্স সংগ্র করা হলো এবং সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে ডাক্তারগণ ঢাকায় রেফার্ড করে দিলেন নাবিলের মার যেন আকাশ ভেঙ্গে মাথায় পড়ল টাকা পয়সা নেই তাছাড়া ঢাকায় চেনাজানা কোনো লোকও নেই নাবিল এদিক সেদিক ফোন দিয়ে ঢাকায় কোন আত্মীয় আছে কি-না তার সন্ধান করতে থাকল খুঁজতে খুঁজতে দূরবর্তী এক খালাতো বোনের সন্ধান পেল যারা অনেক দিন থেকেই ঢাকায় থাকে তাও আবার ঢাকা সদর হাসপাতাল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে তাদেরকে সব খুলে বলে তার বাবাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গেলো ঢাকা সদর হাসপাতালে তারা পৌছালে দেখতে পেলো তার সেই খালাতো বোন এবং দোলাভাই তাদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে রোগীকে গাড়ী থেকে নামিয়ে তার দোলাভাই তাদেরকে সাথে নিয়ে কোথায় ভর্তি করাতে হয়ে কিভাবে কী করতে হবে সব ব্যবস্থা করে দিলেন এসব করতে করতে রাত বারটা বেজে গেলো তখন তার দুলাভাই এবং বোন চলে যেতে চাইল সাথে নাবিলকেও যাওয়ার জন্য বলল নাবিল বলল আজ যেতে পারছি না মা একা সামলাতে পারবে না তিনি কখনো ঢাকায় আসেননি তাই কোন কিছুর প্রয়োজন হলে কই যাবে কী করবেন তা বুঝতে পারবে না পরদিন তার দুলাভাই তাদের জন্য খাবার নিয়ে আসলো খাওয়া শেষে আদিলকে বলল, চল আমাদের বাসাটা দেখাই সমস্যা হলে যেন যেতে পার তার মাও সায় দিয়ে বলল, যা বাসাটা চিনে আয় তাই আদিল তার দুলাভাইয়ের সাথে তাদের বাসায় গেল এক রাতে  রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলো ইতিমধ্যে তার মা হাসপাতালের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন তাছাড়া তার বাবার রোগও কিছুটা কমে এসেছে আর ওদিক থেকে প্রাই তার দুলাভাই রাতে তাদের বাসায় গিয়ে ঘুমাতে বলে আজ বিকালে তার বোন তাকে বাসায় এসে থেকে যেতে বলল মাকে বলাতে মা বলল যা কয়েকটা দিন তো খুব কষ্ট করলি আজ না হয় তোর বোনের বাসায় গিয়ে একটু শান্তিতে ঘুমিয় আয় আদিল চিন্তা করল রাতে ডাক্তারদের ভিজিটের পরই চলে যাবে ডাক্তারদের ভিজিট শেষ হতে হতে রাত এগারোটা বেজে গেলো মা বলল, এতরাতে এখন আর যাওয়ার দরকার নেই আদিলেরও মন চাইছে না কিন্তু সে যেহেতু কথা দিয়ে ফেলেছে তাই সে তার মাকে বলল, মা আমার জন্য আপু অপেক্ষায় আছেন তাই আমাকে আজ যেতেই হবে এই বলে সে অনিচ্ছ সেত্বেও মার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল

 

কিছুটা পথ গাড়িতে এসে নেমে পড়ল তারপর একটা রিক্সাকে ডেকে বলল মামা, সামনের তিন নাম্বার গলিতে নামলে ভাড়া কত নিবেন রিক্সাওয়ালা বলল মামা ত্রিশ টাকা দিতে হবে এত বেশি ভাড়ার কথা শুনে সে বল ঠিক আছে আমি তাহলে হেটেই যাবো এই বলে সে হাটা শুরু করল রাত এখন প্রায় বারোটা বেজে গেছে এখান থেকে প্রায় বিশ মিটি তাকে হেঁটে যেতে হবে ঢাকা শহরে সে এর আগে কখনো আসেনি তাছাড়া এই এত রাতে একলা হাটছে এটা ভেবে তার মনে কিছুটা ভয়ও করছে সে ভাবছে যদি কোন ডাকাত তাকে ধরে তাহলে সে কী করবে এই চিন্তা করে ভয়ে ভয়ে রাস্তা হাঁটছে প্রায় পাঁচ মিনিট হাঁটার পর হঠাৎ তাকে দেখে একটা কুকুর ঘেউ ঘেউ করে উঠলো কুকুরের চিৎকার শুনে তার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো সে থমকে দাঁড়াল কুকুর ঘেউ ঘেউ করেই যাচ্ছে সে মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সে ভাবছে যদি পালানোর জন্য দৌড় দেই তাহলে কুকুর এসে কামড়িয়ে ধরবে তাছাড়া সারা রাত দাঁড়িয়ে থাকাও সম্ভব নয় তাই সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই এই ভেবে আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলো তার সামনে অগ্রসর হওয়া দেখে কুকুর আরও উচ্চ শব্দে ঘেউ ঘেউ করতে থাকলো কুকুরের সেই আওয়াজ শুনে দূরের আরও কয়েকটি কুকুর ছোটে আসলো এই দৃশ্য দেখে তার মাথা তালগুল পাকিয়ে গেলো কী করবে এখন? ভয়ে যেন দেহ থেকে আত্মা বেরিয়ে যাচ্ছে আজ যেন বিপদ তাকে চারদিকে থেকে ঘিরে ধরেছে ভয়ে তার শরীরটা ঝাকুনি দিয়ে কাঁপা শুরু করে দিয়েছে এখন চারদিক থেকে প্রায় দশ বারোটা কুকুর এসে তাকে ঘিরে প্রচণ্ড শব্দে ঘেউ ঘেউ করে কাঁছে আসতে আসতে আবার পিছিয়ে যাচ্ছে কুকুরগুলোর চোখ দিয়ে যেন আগুন বের হচ্ছে ভয়ে তার ঠোট মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে কিন্তু তাকে এখন বাঁচতে হবে এই চিন্তা করে সে এক বুদ্ধি বের করল যেহেতু কুকুরগুলো এখনো তাকে কামড় দিতে সাহস পাচ্ছে না তাই একটু একটু করে আগ বাড়াতে হবে দাঁড়িয়ে থাকলে কোন উপায় হবে এই ভেবে সে দুই কদম সামনে আগাল দেখল পিছনের কুকুরগুলো তাকে কামড়াবার জন্য ঘেউ ঘেউ করে এগিয়ে আসছে এটা দেখে সে থমকে দাড়িয়ে গেল কুকুরগুলোও সামান্য একটু দূরে চলে গেলো তাপর আবার দুই কদম এগুলো প্রচণ্ড ভয়ের মধ্যেও সে এভাবে এক পা দু পা করে এগুতে থাকলো প্রায় দুই ঘন্টা হাঁটার পর কুকুরগুলো একটা দুইটা করে চলে যেতে থাকলো কারণ এতক্ষণে কুকুরগুলোর নিজস্ব এরিয়া থেকে সে অনেকটা দূরে সরে আসতে সক্ষম হয়েছে সে নিজেকে মুক্ত দেখে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করল এতক্ষণে তার মায়ের কথা মনে পড়ল এবং মনটা ভীষণ খারপ হয়ে গেলো হঠাৎ দু চোঁখ বেয়ে দর দর করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল তারপর বুকে সাহস সঞ্চয় করে আবারও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলো

গল্প থেকে শিক্ষা: অপরিচিত রাস্তায় রাতের বেলা একা হাঁটা উচিত নয় কেননা এতে বিপদে পড়ার ভয় থাকে