গঠণমূলক আলোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গঠণমূলক আলোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

দ্বীনের শিক্ষাদান ও প্রচার করে বিনিময় নেওয়া ‍যাবে কি?


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন- “হে ঈমানদারগণ, আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসায়ের সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব থেকে রক্ষা করবে? তোমরা আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তোমরা তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।  (সূরাঃ আস-সফ, আয়াত ১০-১১)

খেয়াল করুন, আল্লাহ তায়ালা এখানে ধন-সম্পদ ও জীবন বিলিয়ে দিয়ে তার পথে জিহাদ করতে বলেছেন এবং এই কাজকে কল্যাণকর বলে সাব্যস্ত করেছেন।

আল্লাহ আরো বলেন- "নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মাল খরিদ করে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে।” [সূরা তাওবা, আয়াত: ১১১]

উক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা পরিষ্কার করে বলে দিলেন যে, তিনি মুমিনদের জান এবং মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। অর্থাৎ দুনিয়াতে মুমিনরা দ্বীনের জন্য জান এবং মাল দেবে শুধুমাত্র পরকালে জান্নাতের আশায়। দুনিয়ার কোন সম্পদ অর্জনের জন্য নয়। যদি দ্বীনের কাজ তথা- কুরআন শিক্ষাদান, ইমামতি, ওয়াজ-নসিহত ইত্যাদির বিনিময় দুনিয়াতেই নিয়ে নেয়া হয়, তবে এর বিনিময় কিভাবে পরকালে আশা করতে পারে?

আল্লাহ তায়ালা আরো স্পষ্ট করে বলেন- "অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোনো বিনিময় কামনা করে না, অথচ তারা সুপথপ্রাপ্ত।" (সূরা ইয়াসীন, আয়াত ২১)

তাহলে আমরা অনুসরন করি কাদের? আমরা যাদের অনুস্মরণ করি বা যাদের কথা মেনে চলি তারা আমাদের কাছ থেকে কোনো বিনিময় বা অর্থ কি নিচ্ছে না?

কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেন- “নিশ্চয় যারা গোপন করে যে কিতাব আল্লাহ নাযিল করেছেন এবং এর বিনিময়ে সামান্য মূল্য গ্রহণ করে, তারা শুধু আগুনই তাদের উদরে পুরে। আর আল্লাহ কিয়ামতের দিনে তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।(সূরা বাকারা, আয়াত ১৭৪)

তাহলে আমাদের ঈমাম,ধর্মীয় বক্তারা কি বিনিময় হিসেবে মূল্য গ্রহণ করছেন না?

 

“আপনি বলে দিন আমি এর বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক চাই না। এটা তো বিশ্ববাসির জন্য একটি উপদেশ মাত্র।”(সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ৯০)

 

অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা নবী (সাঃ) কে বিনিময় না চাওয়ার বিষয়ে ঘোষণা দিতে বলেছেন।

 পাঠক! প্রত্যেক নবী এবং রাসূলগণের ইতিহাস দেখলে জানতে পারবেন যে, নবী-রসূলগণ এই দ্বীন প্রচারের জন্য বিনিময় তো নেন-ই নাই বরং এই দ্বীন প্রচার করতে গিয়ে জুলুম, নির্যাত, অত্যাচার, জখম সহ্য করেছেন। যে দ্বীন আল্লাহ তায়ালা মানুষের হেদায়াতের জন্য বিনামূল্যে দিলেন, যার প্রচার নবী-রাসূলগণ বিনামূল্যে করলেন আজ সেই দ্বীন শেখানোর কথা বলে মাদরাসা খোলা হয় এবং নির্দিষ্ট বেতনের কম দিলে বলা হয়, এর কম দিলে আপনার সন্তানকে পড়াবো না অর্থাৎ দ্বীনের শিক্ষা দেবো না। মনে রাখবেন ধর্ম কোন ব্যবসায়িক পুজি নয় যে, এটাকে শিক্ষা করে উপার্জনের পুজি হিসেবে ব্যবহার করবেন।

আবার দুনিয়াতে দ্বীনের বিনিময় তো নেওয়া যাবেই না বরং দ্বীনের উপর যারা কায়েম থাকবে আল্লাহ তায়ালাই উল্টো তাদেরকে অভাব অনটনের মাধ্যমে পরীক্ষা করবেন বলে জানিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন- "আর আমরা অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা। তবে আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদেরকে।” (সূরা বাকারাহ, আয়াত-১৫৫)

এখন প্রশ্ন হলো দ্বীনকে যদি পুজি বানিয়ে ব্যবসা করা হয় তাহলে ধন-সম্পদের কি ক্ষতির কোন আশংকা আছে? বরং এর মাধ্যমেই তো আজ আলেম সমাজ নামে পরিচিত গোষ্ঠিটি মাদ্রাসা খোলে, ওয়াজ করে টাকা কামিয়ে বিলাসী জীবন যাপন করছে।

চলুন এখন এ বিষয়ে এমন কিছু হাদিস দেখে নেওয়া যাক, যে হাদিসগুলো বর্তমানে আলেমরা নিজেদের স্বার্থে গুপন করছে:

হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি কুরআন শিক্ষাদানের উপর একটি ধনুকও গ্রহণ করবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার পরিবর্তে জাহান্নামের আগুনের ধনুক তার গলায় লটকাবেন।” (সহিহুল জামে ৫৯৮২ নং)

মহানবী (সঃ) বলেছেন, “তোমরা কুরআন শিক্ষা কর এবং তার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট বেহেশত প্রার্থনা কর তাদের পূর্বে, যার কুরআন শিক্ষা করে তার মাধ্যমে দুনিয়া যাচাই করবে। যেহেতু কুরআন তিন ব্যক্তি শিক্ষা করে, প্রথমতঃ সেই ব্যক্তি, যে তার দ্বারা বড়াই করবে। দ্বিতীয়তঃ সেই ব্যক্তি, যে তার দ্বারা উদরপূর্তি করবে এবং তৃতীয়তঃ সেই ব্যক্তি, যে কেবল আল্লাহর উদ্দেশ্যে তেলাওয়াত করবে।” (আবু উবাইদ, হাকেম, সিলসিলাহ সহিহাহ ২৫৮ নং)

তিনি বলেন, “তোমরা কুরআন পাঠ কর এবং তার নির্দেশ পালন কর, তার ব্যাপারে অবজ্ঞা প্রদর্শন অ অতিরঞ্জন করো না এবং তার মাধ্যমে উদরপূর্তি ও ধনবৃদ্ধি করো না। (সহিহুল জামে ১১৬৮ নং)

তিনি আরও বলেন, “যে ব্যক্তি আখেরাতের কর্ম দুনিয়া লাভের উদেশ্যে করবে, তার জন্য আখেরাতের কোন ভাগ থাকবে না।” (আহমাদ )

তিনি আরও বলেন, “ যে ব্যক্তি কোন এমন ইলম অন্বেষণ করে যার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশা করা হয়, যদি সে তা কেবল মাত্র পার্থিব সম্পদ লাভের উদ্দেশ্যেই অন্বেষণ করে তবে সে কিয়ামতের দিন জানাতের সুগন্ধও পাবে না।” (আবি দাউদ, আহমাদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান)

লিংক: https://www.hadithbd.com/books/link/?id=2254

 

উবাদা ইবনুস সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"আমি আহলুস সুফফার মধ্য থেকে এক ব্যক্তিকে কুরআন শিক্ষা দিয়েছিলাম এবং একটি ধনুক উপহার হিসেবে পেয়েছিলাম। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।  তিনি বললেন, 'তুমি যদি এটি গ্রহণ করতে চাও, তবে গ্রহণ কর এবং জাহান্নামের একটি আগুন তোমার গলায় ঝুলিয়ে নাও।' (সুনানে আবূ দাউদ, বাবুস সাওয়াব ফিল কুরআন)

 

উসমান বিন আবিল আস ইমামতি প্রার্থনা করে বলেছেন , ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে আমার কওমের ইমাম বানিয়ে দিন।’ মহানবী (সঃ) বললেন, “তুমি তাদের ইমাম। তুমি জামায়াতের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির খেয়াল করে নামায পড়াবে। আর এমন মুয়াজ্জিন রাখবে, যে আযানের জন্য পারিশ্রমিক নেয় না।” (আবু দাউদ ৫৩১, তিরমিজি ২০৯, নাসাঈ ২/২৩, ইবনে মাজাহ ৯৮৭ নং, ত্বাবারানী, সহিহুল জামে ৩৭৭৩ নং)

এ নির্দেশ স্পষ্টতঃ যদিও মুআয্যিনের জন্য, তবে ইমামের ক্ষেত্রে এ নির্দেশ অধিকতর প্রযোজ্য।

 লিংক : https://www.hadithbd.com/books/link/?id=2256

যারা নিজেদের স্বার্থে ফতোয়া বানিয়ে টাকা নেওয়াকে বৈধ করেছেন, তাদেরকে ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, দেখুন এভাবে মাদারাসা খুলে যদি টাকা নেওয়া জায়েজ হতো তাহলে মক্কা বিজয়ের পর নবী (সাঃ) এবং সাহাবাগণ বড় বড় মাদরাসা খুলতে পারতেন।আর আপনাদের ভাষায় খেতমতও করতে পারতেন এবং আপনাদের মতো লাভবানও হতে পারতেন।কিন্তু ইতিহাসে তেমনটি পাবেন না। কারণ এভাবে দ্বীনী শিক্ষা ও প্রচারের বিনিময় নেওয়া হারাম (আর উপরে আয়াত ও হাদিস দ্বারা সেটা পরিষ্কার দেখিয়ে এসেছি) বলেই তারা কোন মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন নাই। তারা মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে সমাজে ও রাষ্ট্রেই দ্বীন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু আজ রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত নেই অথচ মাদ্রাসার অভাব নেই। ফলে মানুষ কুরআনের হাফেজ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্র চলছে তাগুতি আইন দিয়ে। আর এই তাগুতি আইনের ফলে প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান লংঘিত হচ্ছে। যেমন- আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন অথচ রাষ্ট্রের অর্থনীতি হচ্ছে সুদভিক্তক। আল্লাহ চুরের হাত কর্তন করতে বলেছেন কিন্তু তারা সামান্য জরিমানা ধরে চুরকে ছেড়ে দিচ্ছে।ফলে চুরি তো কমছেই না বরং চুর আরও উৎসাহিত হচ্ছে। আল্লাহ ধনীদের থেকে যাকাত আদায় করে গরীবদের প্রদান করতে বলেছেন। কিন্তু এই রাষ্ট্রে সরকার বা সমাজের কেউ ধনীদের থেকে যাকাত নিচ্ছে না এবং গরীবদের মাঝে বন্টন করছে না। উল্টো ধনীরা গরীবদেরকে সুদের জালে বন্দি করে আরও বেশি করে শোষণ করছে। আল্লাহ ঘোষণা করেন- “সাবধান! সৃষ্টি যার, হুকুমও চলবে তারই।” (সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৪৪) অথচ এত মাদরাসা, এত আলেম-উলামা, পীর-বুযুর্গ আর এত শায়েখ থাকতেও কি এই রাষ্ট্রে আল্লাহর বিধান চলছে?


মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, ২০২৫

ইন্তিফাদা বাংলাদেশকে যেরূপ দেখতে চাই:

 

ইন্তিফাদা বলতে বুঝায় জাগরণ, উত্থান বা প্রতিরোধ আন্দোলন। এই শব্দগুলোর মাঝে যে তীব্রতা ও বিপ্লবের আমেজ রয়েছে সেই বিপ্লবী কর্মসূচী কি এই “ইন্তিফাদা বাংলাদেশ” নামক সংগঠনে রয়েছে? ভিডিওতে আপনাদের কর্মসূচীর ঘোষণাগুলো শুনে আমার কাছে তেমনটা মনে হয়নি। ভিডিও থেকে মোটা দাগে কয়েকটি বিষয় ‍বুঝতে পেরেছি। যেমন- মুসলিম জনগুষ্ঠির প্রতিনিধিত্ব করা, ইসলামের মূল্যবোধ রক্ষা করা, সরকারকে ইসলামের বিষয়ে নৈতিক পরামর্শ দেওয়া, গবেষণামূলক লেখনির মাধ্যমে গণতন্ত্রের অষাড়তা প্রমাণ এবং ইসলামী মূল্যবোধের বিকাশ করা ইত্যাদি। এই কার্যক্রমগুলোর মাধ্যমে ইন্তিফাদা শব্দের উপযুক্ত কর্মসূচী গৃহীত হয়েছে বলে আমার মনে হয়নি। তাই সাধারণ মুসলিম জনগুষ্ঠির পক্ষে আমি ইন্তিফাদা বাংলাদেশকে যেরূপ দেখতে চাই তার একটি রোডম্যাপ তুলে ধরা হলো-


গণতান্ত্রিক সিস্টেমকে পরামর্শ নয় হোক বিদ্রোহ: আপনারা জানেন যে, গণতন্ত্র নিজেই একটা জীবন ব্যবস্থা, যা ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে। তাই এই সিস্টেমকে পরমর্শ নয় বরং এই সিস্টেমের বিরুদ্ধে মুসলিম জনসাধারণকে সচেতন করা। এই সিস্টেম কেন ইসলামের জন্য চ্যালেঞ্জ এবং এর বিপরীতে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ জীবন ব্যস্থার সৌন্দর্য তুলে ধরার মাধ্যমে মুসলিম জনসাধারণে মাঝে শরিয়াহ শাসনের তীব্র আকাংখা গণতন্ত্রের প্রতি তীব্র ঘৃণা তৈরি কর। যেন মুসলিম জনগোষ্ঠি এই গণতন্ত্রের উৎখাত করে ইসলামী শাসন কায়েমের স্বপ্ন দেখতে পারে।


বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং ঐক্যবদ্ধ জনশক্তি তৈরি করা: সদস্যদেরকে ইসলামের আলোকে নেতার আনুগত্যের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং বিপদে-আপদে সদস্যদেরকে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় ঐক্যবদ্ধ থাকারা নসিহত প্রদান করা।


সংগঠনকে ক্ষুদ্র শরিয়াহ হিসেবে পরিচালনা: 

যেমন- ক) গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে সদস্যরা রাষ্ট্রিয় ও সামাজিক বিভিন্ন চাপের মুখে পতিত হবে এবং অনেকের জানমাল ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এসবের মোকাবেলায় সদস্যরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত সদস্য বা পরিবারকে অর্থ ও খাবার দিয়ে সহায়তা প্রদান করে এমন ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি করতে হবে। 

খ) সংগঠনের উদ্যোগে ফান্ড তৈরি করা হবে যেন, মজলুম সদস্যদেরকে সহায়তা প্রদান করা যায়। তাছাড়া প্রতিটি সাংগঠনিক প্রোগ্রামে যেন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা সাধারণ সদস্যদের আর্থিক অবস্থার খোজ খবর নেয়। এতে করে কর্মীরা উজ্জীবিত হয়।

গ) বিত্তশালী সদস্যদের থেকে যাকাত আদায় করে অভাবী সদস্যদের পরিবারে বন্টন করা। এতেকরে সংগঠনের মজবুতি কায়েম হবে।

ঙ) সংগঠনের অধীনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দরকার। যেন সংগঠনের কর্মীদেরকে আর্থিক আয়ের জন্য সুদ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকে পড়তে না হয়।

চ) বাস্তব জীবনে ন্যায় ও সততার পথে অবিচলতার পথে অটল থাকার পরামর্শ দেওয়া। বিশেষ করে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা বাজায় রাখার ব্যপারে আপোষহীন নীতি অবলম্বন করা। 

ছ) নিজেদের মধ্যে সংঘটিত ঝগড়া-বিবাদ সংগঠন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সালিশি বোর্ডের মাধ্যমে সমাধান করা। 


কুরআনকে সংবিধান হিসেবে উপস্থাপন: বর্তমান মুসলিম সমাজ কুরআনকে কেবল নেকি অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করে। তাই কুরআনকে মানবতার মুক্তির সংবিধান হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে।


স্বতন্ত্র সভ্যতা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া: একটি আলাদা সংস্কৃতি ও সভ্যতা নির্মাণে নিজস্ব স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, গবেষণাগার, ব্যাংকিং সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে। যাকাত ব্যবস্থা চালু করতে হবে। কর্জে হাসানার ব্যবস্থা করা। । সর্বোপরি নিজস্ব কমিউনিটি ডেভেলপের কার্যক্রম হাতে নেওয়া।


সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ: বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে তরুণদেরকে সংগঠনে আকৃষ্ট করতে হবে। যেমন- রক্তদান কর্মসূচী, স্বেচ্ছায় রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, গরীবের ফসল ফলানো ও উত্তোলনে সহায়তা, অসহায়দের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। যেমন, ব্যাবসা গড়ে দেওয়া, গাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়া, কর্মে উৎসাহিত করা। ভিক্ষা ব্যবস্থাকে নিরুৎসাহিত করা। 


গুণীজনকে আকৃষ্ট করা: দেশ ও সমাজের প্রভাবশালী, বিশেষজ্ঞ, শিল্পপতি, লেখক, সমাজ সেবক, আলেম, ইমাম ও এধরণের ব্যক্তিদেরকে দৃষ্টি আর্কষণ করা ও বিভিন্ন বৈঠকে অতিথি হিসেবে রাখার চেষ্টা করা। এতে কয়েক ধরণের লাভ হবে। যথা- হিংসা কমবে ও সংগঠনে আকর্ষিত হবে। আর্থিক ও জ্ঞানে সহায়তা পাওয়া যাবে। সমাজে সংগঠনের প্রভাব বিস্তার করা যাবে। সর্বশেষে তাদেরকে সংগঠনে যুক্ত করার পরিবেশ তৈরি হবে। তাছাড়া নতুন ইসলামী বক্তা, নতুন গবেষক, নতুন ইসলামী লেখকদের সাথে সবার আগে পরিচিত হওয়া, নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরা এবং দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করা।


প্রোগ্রামসমূহে ইহতেসাবের এজেন্ডা রাখা: নেতৃস্থানীয়দের ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ইহতেসাবমূলক প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মীদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। সংগঠনের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দেওয়া নতুন পরামর্শ বিবেচনা ও গ্রহণ করতে হবে।


টেকসই সাংগঠনিক কাঠামোর বিন্যাস: সর্বোচ্চ নেতা একজন থাকবেন। তিনি সর্বোচ্চ মজলিশে শুরার সভাপতি এবং সর্বাধিনায়ক হবেন। তার টিমের আন্ডারে থাকবে বিভিন্ন বিভাগের কেন্দ্রিয় সভাপতিগণ, যাদেরকে এই টিম দিকনির্দেশনা দিবেন। আর এই কেন্দ্রিয়া সভাপতিগণ হবেন ১-৫ বছরের নির্দিষ্ট একটি মেয়াদ পর্যন্ত। মেয়াদ নির্দিষ্ট থাকলে প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়, যা অনির্দিষ্ট কালের মেয়াদের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। যেমন একজন ইবাদতকারী যদি জানতে পারে যে, সে আর এক মাস বেঁচে থাকবে, তাহলে ইবাদতে তার একনিষ্ঠতা ও ইবাদতের সময় বৃদ্ধি পাবে। যেমন- আলী বানাতের জীবনী।


তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে বিস্তৃত করা: যোগ্য দায়িত্বশীল তৈরির উদ্দেশ্যে সংগঠনকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করা। যেমন- ছাত্র শাখা, যুব শাখা, শিশু-কিশোর শাখা ইত্যাদি। তারপর প্রতিটি শাখার জন্য- বিভাগীয় দায়িত্বশীল, জেলা, থানা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম/মহল্লা দায়িত্বশীল নিয়োগ দেওয়া। 


সংগঠনে যুক্ত সদস্যরা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করা:  যেমন- কারও কর্জে হাসানার দরকার হলে প্রদান করা, অভাবী থাকলে অভাব দূর করা, পরিবার ও সমাজ থেকে বঞ্চিত হলে আশ্রয় দেওয়া, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাকে যাকাত প্রদান করা, কর্মহীন হলে কর্মের ব্যবস্থা করে দেওয়া, বিয়েশাদীতে সাংগঠনিক অনুমতি ও সংগঠনের তত্ত্বাবধানে বিয়ের আয়োজন করা, সংগঠনের বাইরে বিবাহকে অনুৎসাহিত করা বা বন্ধ করা। কেননা এতেকরে পারিবারিক জীবনে মতানৈক্য সৃষ্টি হতে পারে এবং ব্যক্তি সংগঠন থেকে ছিটকে যেতে পারে। 


নিজস্ব মিডিয়া তৈরি: বিরুধীদের অপপ্রচারের জবাব দিতে এবং নিজেদের আদর্শের প্রচারের জন্য মিডিয়া তৈরি, সাংবাদিক তৈরি, নিজস্ব সংবাদপত্র ও প্রকাশনী প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবী। 


নিজস্ব স্কুল-কলেজ তৈরি: নিজস্ব স্কুল-কলেজ তৈরি করে দ্বীন ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বিত কারিকুলাম প্রণয়ন করে ছাত্রদেরকে দ্বীন ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার কর্মসূচী হাতে নেওয়া।


ভিন্ন ধারায় ইসলামের খেদমতকারীদের শুভাকাংখীর ভূমিকায় থাকা:  ইসলামী ভাবধারার সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, টিভি চ্যানেল, ফেসবুক গ্রুপ ইত্যাদির সমর্থন, সহমর্মিতা এবং কাছে আনতে হবে। এমনকি প্রতিটি চ্যানেলের সাবস্ক্রাইব ও মেম্বারদের সাথে অনলাইনে অফলাইনে যোগাযোগ ও পরিচিত হওয়া এবং তাদেরকে দলে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করা।


অনুশীলনযোগ্য ইসলামের নমুনা তৈরি: 


বর্তমান আলেম সমাজ শুধুমাত্র মুখে ইসলামের গৌরবের কাহিনী বলে বেড়ায়। কিন্তু বাস্তবে অনুশীলন করা যায়, পর্যবেক্ষন করে দেখা যায় এবং সমষ্টিগতভাবে চর্চা করা যায় এমন একটি সমাজ সৃষ্টি করে দেখাতে পারেনি (যাদের মাঝে বসবাস করে বাস্তব ইসলামের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে)। তাই আপনারা এমন একটি সমাজ তৈরি করুন যেই সমাজে গিয়ে ইসলামের সৌন্দর্য্য কিছুটা হলেও পর্যবেক্ষন করে দেখা যাবে। যেমন- 

ক) আপনাদের প্রতিষ্ঠিত স্কুলের দোকানে বিক্রেতা না থাকলেও ছাত্র-ছাত্রী বা বা শিক্ষক দোকানের জিনিস বিনামূল্যে বা কৌশলে কম মূল্যে নিবে না।

খ) বাগানের গাছগুলোতে ফল ঝুলে থাকলেও কোন সদস্য গাছ থেকে আম ছিড়ে খাবে না বা চুরি করে নিয়ে যাবে না।

 গ) ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত পণ্যগুলোতে লাভের আশায় কেউ ভেজাল মিশ্রণ করবে না। 


শেষকথা: সর্বশেষে বলতে চাই, প্রস্তাবিত এই নীতিগুলো পছন্দ হলে আরও বিস্তারিতভাবে লিখে দিতে প্রস্তুত আছি। 



রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫

যে কর্মসূচী “ইসলামী সমাজ”কে ৫০ বছর এগিয়ে দিতে পারে

 যে কর্মসূচী “ইসলামী সমাজ”কে ৫০ বছর এগিয়ে দিতে পারে

লোগো সংশোধনঃ আপনাদের লোগোতে কাবার চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা নৈতিকভাবে সঠিক নয়। কেননা যে কোনো বস্তুর ফটো ইসলামে নিষিদ্ধ। তাই লোগোতে কাবা’র ফটো ব্যবহার একটি প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান। কেননা ফটো হলো মূর্তির আরেকটি রূপ। 


রিপোর্ট ভিত্তিক পর্যালোচনাঃ কে কতজন সমর্থক, কর্মী, সাথী, সদস্য বৃদ্ধি করলো তা রিপোর্ট ভিক্তিক খাতা-কলমে অফিসিয়াস সিস্টেমে পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা। এতেকরে যেমন- একজন কর্মীর দক্ষতা যাচাই করা যাবে তেমনি তথ্য সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের যোগ্যতাও সৃষ্টি হবে।

স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে সমাবেশ নিশ্চিতকরণঃ আপনাদের অধিকাংশ সমাবেশে দেখা যায় নির্দিষ্ট গুটি কয়েক লোকই ঘুরে ফির দাওয়াতী কাজ করছে। কেন? আপনারা প্রতিটি জায়গার স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে সমাবেশ করেন। লোক না থাকলে কিছুদিন সেই এলাকায় সময় দিলে স্থানীয় সংগঠন তৈরি করে উক্ত সংগঠনকে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করেন। এতেকরে নতুন নতুন লোক তৈরি হবে এবং স্থানীয় সংগঠন শক্তিশালী হবে।


শক্তিশালী মিডিয়া ও প্রকাশনী শাখা তৈরিঃ বর্তমান যুগকে বলা হয় মিডিয়ার যুগ। একটি শক্তিশালী মিডিয়া একশত দায়ীর ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ মিডিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ের একটি বক্তব্যকে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রচার করা যায়। তাই একটি শক্তিশালী মিডিয়া শাখা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।  তাছাড়া সমাজের চিন্তাশীল মানুষেরা ইসলাম নিয়ে তাদের চিন্তা-ভাবনা লেখালেখির মাধ্যমে প্রকাশ করতে চায়। তাদেরকে সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করতে সংগঠনের প্রকাশনীতে তাদের লেখা আহ্বান করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষিত ও চিন্তাশীল মানুষেরা সহজেই সংগঠনে আকৃষ্ট হতে পারে। তাছাড়া সংগঠনের আভ্যন্তরীণ দায়ীত্বশীলগণও একটি প্রকাশনীর মাধ্যমে বাস্তবতার আলোকে করণীয়গুলো সবার মাঝে শেয়ার করতে পারে।


ছাত্রদের জন্য আলাদা শাখা তৈরিঃ দেশের অন্যান্য সংগঠনগুলোর দিকে দৃষ্টি দিলে দেখবেন যে, যারাই সংগঠনে ছাত্র শাখা তৈরি করেছে তারাই লাভবান হয়েছে। ছাত্রদের উদ্যম ও কর্মসক্ষমতা অনেক বেশি। তাছাড়া সংগঠনকে বিভক্ত করে পরিচালিত করতে পারলে অধিক দায়িত্বশীল তৈরি হয়। এতেকরে সংগঠন নেতৃত্বশূন্যতায় ভোগে না এবং সংগঠন বেগবান হয়। এজন্য সংগঠনকে আরাও বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করে দায়িত্বশীল তৈরি করা যেতে পারে। যেমন-


সংগঠনকে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত করণ ও নেতৃত্ব তৈরিঃ 

যেমন- ক) সাংস্কৃতিক শাখা খ) আইটি শাখা  গ) সংবাদ শাখা ইত্যাদি

তাছাড়া যুব শাখা, কৃষক শাখা, বৃদ্ধ শাখা, পেশাজীবী শাখা ইত্যাদি ভাগে বিভক্ত করে বেশি বেশি নেতৃত্ব তৈরি করা যাকে করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্ধারণ করতে একাধিক বিভাগ থেকে বাছাই করে অধিক যোগ্য নেতা বাছাই করা যায়।


সংগঠনকে গতিশীল করতে নেতার মেয়াদ নির্ধারণ করে দেয়াঃ আর তা এই পদ্ধতিতেও হতে পারে যে, সর্বোচ্চ নেতা একজন থাকবেন। তিনি মজলিশে শুরার সভাপতি এবং সংগঠনের সর্বাধিনায়ক হবেন। তার টিমের (মজলিশে শুরারা) আন্ডারে থাকবে বিভিন্ন বিভাগের কেন্দ্রিয় সভাপতিগণ, যাদেরকে এই টিম দিকনির্দেশনা দিবেন। আর এই কেন্দ্রিয়া সভাপতিগণ হবেন ১-৫ বছরের নির্দিষ্ট একটি মেয়াদ পর্যন্ত। মেয়াদ নির্দিষ্ট থাকলে প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পায় এবং কাজে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়, যা অনির্দিষ্ট কালের মেয়াদের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। যেমন একজন ইবাদতকারী যদি জানতে পারে যে, সে আর মাত্র এক মাস বেঁচে থাকবে। তাহলে তার প্রচেষ্টা ও ইবাদতের একাগ্রতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। যেমন- আলী বানাতের জীবনী। 


তৃণমূল নেতৃত্ব তৈরিঃ সাংগঠনিক দায়িত্বকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত করে তৃণমূল পর্যন্ত নেতৃত্ব তৈরি করা। যেমন- কেন্দ্রীয় সভাপতি, জেলা সভাপতি, থানা সভাপতি, ইউনিয়ন সভাপতি, ওয়ার্ড সভাপতি, গ্রাম বা মহল্লা সভাপতি ইত্যাদি।


মাইনাস ফর্মূলাঃ অন্যান্য ইসলামী দলগুলো যদি পেইড দায়িত্বশীল ছাড়া চলতে পারে তাহলে আপনারাও পারবেন। তবে হ্যা এক ঝটকাতেই হয়তো পারবেন না কিন্তু আন্তরিক চেষ্টা থাকলে নতুন নতুন স্বচ্ছল পরিবারের লোকদেরকে দায়িত্ব দিয়ে পেইড দায়িত্বশীল মাইনাস কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে পারবেন। বিশেষ করে পরবর্তী দায়িত্বশীলদের বেলায় কার্যকর করা যাবে।


ইহতেসাব মূলক প্রোগ্রামঃ মানুষ মাত্রই ভুল করে। দায়ীত্বশীলগণও ভুল করে থাকে। তবে তাদের এই ভুলগুলোর কারণে কর্মীরা মনে মনে বিরক্ত হলেও ভুলগুলো  ধরিয়ে দিতে সাহস পায় না। তাই মাঝে মাঝে বৈঠকের শেষে ইহতেসাব বা সংশোধন এজেন্ডা রেখে নিজেদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে কর্মীদের আহ্বান করা। কর্মীরা ভুল ধরিয়ে দিলে তাদেরকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করা অথবা ভুল স্বীকার করে নিয়ে পরবর্তীতে সংশোধন করা হবে বলে আশ্বাস দিলে কর্মীরা দায়িত্বশীলদের প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল ও বিশ্বস্ত হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে।


থিংক ট্যাংক বিভাগ চালু করাঃ সংগঠনের এমন একটি শাখা থাকবে, যাদের কাজ হবে অন্যান্য দলগুলোর গতিশীলতার ইতিবাচক কারণ খুজে বের করে সেগুলোকে নিজ সংগঠনে প্রয়োগের আবেদন করা। মজলিশে শুরার মাধ্যমে সেগুলোকে পর্যালোচনার পর সংগঠন সেগুলোকে গ্রহণ বা বর্জন করবে।


সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণঃ  “মানব সেবাই ধর্ম” এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে নিজেদেরকে সমপৃক্ত করা। যেমন- রক্তদান সংঘ তৈরি, কর্মীদের নিয়ে রাস্তা-ঘাট মেরামত, যাকাত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, সামাজিক অন্যায় প্রতিরোধে তরুণদের নিয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি তৈরি, পাবলিক টয়লেট ও প্রসাবখানা নির্মাণ, পাবলিক নলকূপের ব্যবস্থা, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পেইন করা, ফ্রি ব্লাড-গ্রুপিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা, মদ-জোয়ার আসরে আশপাশের লোকজন সচেতন করে এগুলো বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া। সুদ প্রতিরোধে কর্জে হাসানাহ ঋণদান কর্মসূচী চালু করা।


সমাজের অবাধ্য সন্তানদেরকে সামাজিক চাপ দিয়ে পিতা-মাতার দায়িত্ব নিতে চাপ সৃষ্টি করা, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরি ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করা। ইসলাম বিরোধী বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার নির্মূলে লিফলেট বিতরণ ও সামাজিক সচেতনতা তৈরি, সামাজিক পরিশোদ্ধতার লক্ষ্যে পারিবারিক ঝগড়া মিমাংসার সুরাহা করে দেওয়া। সমাজের ছেলে-মেয়েদেরকে শালিন পোষাক পড়তে উৎসাহিত করা এবং অভিভাবকদেরকে সচেতন করার দায়িত্ব নেওয়া, দানের প্রতি উৎসাহিত করা এবং প্রতারক খয়রাতিদের প্রতিরোধ করা, সমাজের অন্যায়কারীদের বিরোদ্ধে সম্মিলিত আওয়াজ উঠাতে উৎসাহিত করা।


সমাজের খারাপ দায়িত্বশীলদের হটিয়ে দ্বীনদার  ন্যায় ও পরোপকারিদের দায়িত্বশীল নিয়োগ দেয়া, সামাজিক উৎকন্ঠার জায়গাগুলোতে প্রতিরোধ ও আওয়াজ বলিষ্ঠ করা এবং যেকোন নিগৃহীতের পাশে দাঁড়ানো, দরিদ্র মেধাবীতের পাশে দাড়ানো, পজিটিভ সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী মেধার মূল্যায়ন ও পুরষ্কৃত করা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সিস্টের লালন ও দুষ্টের দমন নীতি গ্রহণ করা, সামাজি দূর্যোগ মোকাবেলায় সম্মিলিত এবং ঐক্যবদ্ধ নীতি গ্রহণ করা।


সুস্থ সবল দেহ গঠনে এবং শারীরিক সামর্থ বৃদ্ধিতে সহাক খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং খেলায় প্রচলিত অনৈসলামিক কার্যকলাপ ও আচরণগুলোর বিলোপ সাধনে সচেষ্ট হওয়া। অলস ও নেশাযুক্ত খেলাগুলোকে নিরুৎসাহিত ও প্রতিরোধ করা। সমাজের ছোট ছোট অংশে ন্যায় ও ইসলামী ঐতিহ্য/মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে সু-কৌশলে কাজ করা। উদ্যোক্তাদের সাপোর্ট করা ও তার বিরোধকারীদের নিরোৎসাহিত করা।


সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫

“ইসলামী সমাজ” সংগঠনের ভুলগুলো


আমি এক সময় জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত ছিলাম। এক সময় খেয়াল করলাম যে এই সংগঠনটি  ইসলামের নামে দিয়ে মূলত গণতন্ত্রকেই আঁকড়ে ধরে আছে, যা কখনোই ইসলামের সাথে সামঞ্জস্য নয়। বরং এটা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক এবং ইসলামকে গণতন্ত্রের সাথে মিশ্রিত করার মত অপরাধ। তাই একটি সঠিক ইসলামী দল তালাশ করতে থাকলাম। অনলাইনে বহু খোজাখোজির পর ইসলামী সমাজ নামক সংগঠনের দেখা পাই। তাদের যে মূলনীতিটি আমাকে আকৃষ্ট করে তা হলো তারা গণতন্ত্রের ঘোর বিরুধী। তাই আমি নিজ উদ্যোগে তাদের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করি এবং সংগঠনে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি। তবে প্রাথমিক যোগদানের পর তাদের কিছু মারত্মক ভুল নীতি আমার দৃষ্টিগোচার হয়, ফলে আবার আমি হতাশ হয়ে পড়ি। যে ভুল নীতিগুলো দেখে এই সংগঠন থেকে দূরে সরে আসা সেই নীতিগুলোরই ধারাবাহিক বর্ণনা করবো এই আলোচনায়। যেন তারা সংশোধিত হতে পারে অথবা আমার ভুল ধরিয়ে দিতে পারে। তাহলে চলুন তাদের ভুল নীতিগুলো নিয়ে আলোচনা শুরুকরি-

হিকমার বড় অভাবঃ একজন দায়ীকে হিকমার অধিকারী হতে হয়। একজন হিকমাহ ওয়ালা দায়ী কখনো একজন অমুসলিমকে এভাবে দাওয়াত দেবে না যে, “এই ব্যাটা তুই তো কাফের! ইসলাম গ্রহণ না করলে তুই জাহান্নামে যাবি। তাই বাঁচতে হলে তোকে ইসলাম গ্রহণ করতেই হবে। তাই যদি বাঁচতে চাস তো ইসলাম কবুল করে নে!” যদিও তার কথাগুলো সঠিক তবে এটা হিকমাহ’র খেলাফ। আপনাদের বেলায়ও অনুরূপ হিকমাহের খেলাফ কিছু কথা হলো ক) মক্কা-মদিনাসহ পৃথিবীর কোন দেশই ইসলামের উপর নেই, একমাত্র আমরাই ইসলামের উপর কায়েম আছি। খ) সারা বিশ্বের মধ্যে একমাত্র আমরাই হকপন্থী দল। গ) আমাদের আমীর আল্লাহর মনোনীত অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা তাদের আমীরকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ঘ) অমুক দাল বাতিল এটা ১০০% গ্যারান্টি, ১০০% গ্যারান্টি যে,  আমরাই হকের দল। ঙ) আমাদের আমীর সারা বিশ্বের একমাত্র বৈধ নেতা ইত্যাদি। একজন সামান্য হিকমাহওয়ালা ব্যক্তিও এমন কথা বলতে পারেন না। কারন সত্য হলেও এভাবে বলা হিকমার খেলাফ এবং ঔদ্ধত্বপূর্ণ অহংকারী আচরণ। এভাবে কথা বললে মানুষ বিরক্ত হয়। ফলে দাওয়াতের প্রভাব সাড়া ফেলতে পারে না। দাওয়াত তো সেটাই যার দ্বারা নিজেদের উদ্দেশ্য সাধিত হয় এবং কেউ বাঁকা দৃষ্টিতে নেওয়ার সুযোগ না পায়।

নড়বড়ে সাংগঠনিক কাঠামোঃ একটি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এর সাংগঠনিক ভীত খুব শক্তভাবে নির্মাণ করা দরকার। আর এজন্য প্রয়োজন প্রতিটি পাড়ায়-মহল্লায় দায়িত্বশীল নিয়োগ করা। যোগ্য লোকের অভাব হলে প্রয়োজনে সমর্থকদের মাঝে দায়িত্ব বন্টন করে দিয়ে তাদেরকে মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা। যাতে স্থানীয় সংগঠন শক্তিশালী হয়। কিন্তু আপনারা তা না করে ভ্রাম্যমান এবং ভাসমান দাওয়াতের নীতি গ্রহণ করেছেন (যোটকে বলা যায় পিকনিক মার্কা দাওয়াত) । আজ ঢাকা তো কাল বরিশাল, কাল বরিশাল তো পরশু সিলেট। এভাবে প্রতিদিন দৌড়-ঝাপ করলে কি আদৌ একটি সংগঠনকে মজবুত করা যাবে? প্রয়োজনে তো এই উদ্যোগ নিতে পারেন যে- যেই এলাকায় দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বের হবেন সেখানে অন্তত তিন-চার দিন বা এক সপ্তাহ সময় দিবেন এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্য থেকে আপনাদের কিছুসংখ্যক সমর্থক তৈরি করে নিবেন। তারপর তাদেরকে ছোট ছোট দায়িত্ব দিয়ে একজন দায়িত্বশীলের সাথে তাদেরকে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দিবেন, যাতে ঐ দায়িত্বশীল তাদেরকে কাজে লাগিয়ে ঐ এলাকায় সংগঠনের বিস্তার করতে সক্ষম হয়। 

মিডিয়া ও প্রকাশনী বিহীন সংগঠনঃ বর্তমান যুগ হলো মিডিয়ার যুগ। একটি শক্তিশালী মিডিয়া একশত দায়ীর ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ মিডিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ের একটি বক্তব্যকে পৃথিবীর সকল স্থানে এবং দীর্ঘ সময় ধরে প্রচার করা যায়। কিন্তু এই মিডিয়াকে শক্তিশালী করার কোন উদ্যোগ ও চিন্তা তাদের আছে বলে মনে হয় না। তাছাড়া সমাজের চিন্তাশীল মানুষেরা ইসলাম নিয়ে তাদের চিন্তা-ভাবনা লেখালেখির মাধ্যমে প্রকাশ করতে চায়। তাদেরকে সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করতে সংগঠনের প্রকাশনীতে তাদের লেখা আহ্বান করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষিত ও চিন্তাশীল মানুষেরা সহজেই সংগঠনে আকৃষ্ট হতে পারে। তাছাড়া সংগঠনের আভ্যন্তরীণ দায়ীত্বশীলগণও একটি প্রকাশনীর মাধ্যমে বাস্তবতার আলোকে করণীয়গুলো সবার মাঝে শেয়ার করতে পারে। কিন্তু ইসলামী সমাজের দায়িত্বশীলরা এটা বুঝে উঠতে পারছেন না। ফলে কেন্দ্রের উদ্যোগে কোন মিডিয়া পরিচালিত হয় না এবং কোন প্রকাশনীও বের হয় না।

যোগ্যতার প্রতি নেই কোন ভ্রুক্ষেপঃ দুনিয়াবী কোন কোন দিকগুলোতে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে অন্যান্য দলগুলো এগিয়ে যাচ্ছে সেই দিকগুলো গ্রহণ এবং নিজেদের কোন কোন দিকগুলো সংশোধনের প্রয়োজন সেদিকে খেয়াল নেই, এ বিষয়ে কোন গবেষণার প্রয়োজন মনে করেছে না। তাদের কাল্পনিক ধারণা- একদিন  চূড়ান্ত পরীক্ষার সম্মুখিন হবো এবং চূড়ান্ত পরীক্ষার পর বিজয়ী হয়ে যাবো! কি কল্পনা বিলাস!

চেতনা বিমুখ সমর্থক ও সহযোগী তৈরিঃ এই সংগঠন থেকে বলা হয় যে, এই সংগঠনের কর্মীদের ভূমিকা দুই ধরনের- ক) আনসার খ) মুহাজির। তাই যারা টাকা দিয়ে শামিল হবে তারাও দাওয়াতের কাজে সমান সওয়াব পাবে। ফলে যারা টাকা দিচ্ছে তারা দায়-দায়িত্ব থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে টাকা দিয়ে দায়ী ও কর্মীদের পেলে-পুষে ইসলাম কায়েম করতে চায়। নিজেদেরকে সংঘাত থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে চায়। এরকম শুভাকাঙ্খি আর কর্মী বাহিনী দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা কি অলীক কল্পনা নয়? 

প্রোগ্রামে আত্মসমালোচনার উন্মুক্ত ব্যবস্থার অভাবঃ মানুষ মাত্রই ভুল করে। দায়ীত্বশীলগণও ভুল করে থাকে। তবে তাদের এই ভুলগুলোর কারণে কর্মীরা মনে মনে বিরক্ত হলেও ভুলগুলো  ধরিয়ে দিতে সাহস পায় না। তাই মাঝে মাঝে বৈঠকের শেষে নিজেদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে কর্মীদের আহ্বান করা। কর্মীরা ভুল ধরিয়ে দিলে তাদেরকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করা অথবা ভুল স্বীকার করে নিয়ে পরবর্তীতে সংশোধন করা হবে বলে আশ্বাস দিলে কর্মীরা দায়িত্বশীলদের প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল ও বিশ্বস্ত হয়। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে। ইসলামী সমাজের বৈঠকগুলোতে এরূপ ব্যবস্থা আছে কি?

গবেষণাহীন নেতৃত্ব ও বইহীন সংগঠনঃ একজন মানুষ ইসলাম কায়েম করতে গেলে বাস্তবতার আলোকে সে প্রতিনিয়ত  অনেক সমস্যার সম্মোখীন হয়। আর তাকে এগুলো কাঁটিয়ে উঠতে তাৎক্ষনিক কিছু পদক্ষেপ ও কৌশল গ্রহণ করে থাকে এবং পরবর্তী দায়ীদেরকে এগুলো জানিয়ে যাওয়ার তীব্র আকাংখ্যা তার মধ্যে তৈরি হয়, যেন পরবর্তী জেনারেশন একই সমস্যায় পড়লে সহজেই মুক্তি পেয়ে যায়। এজন্য সে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে পরবর্তীদের জন্য বই লিখে থাকে। কিন্তু এখানে এমন নেতা পাওয়া মুশকিল। তারা বইয়ের কোন প্রয়োজনীয়তাই অনুভব করেন না। তাহলে তাদের কর্ম-প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ আছে। 

সৃজশীলতা বিবর্জিত দাওয়াতের পদ্ধতিঃ তারা কিছু ধরাবাধা কথা ও যুক্তির মারপেচ বলে যায়, চাই তা মানুষ বুঝোক আর না বুঝোক।  মানুষের যোগ্যতা বুঝে উপযুক্ত শব্দ চয়ন ও  কথা বলার যে বিষয়টা আছে তা তারা বুঝার চেষ্টা করেন না। তাছাড়া আল্লাহর গুণবাচক নাম  নিয়ে তারা বাড়াবাড়ি করে থাকেন। তাদের আলোচনা শুনলে মনে হয় আল্লাহর গুণবাচক নাম রব্ব নামটি অন্যান্য সকল নামের চাইতে বেশি শ্রেষ্ঠ। এভাবে আল্লাহর গুণবাচক নামের মধ্যেও তারা পার্থক্য বা বৈষম্য তৈরি করছে।

শিক্ষার প্রতি অনীহাঃ  একজন শিক্ষিত নতুন কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে দায়ী হিসেবে গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নেই। একাডেমিক শিক্ষার ব্যপারেও তারা উদাসীন। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। আর একারনে একজন শিক্ষিত মানুষ তাদের ডাকে সাড়া দেওয়ার আবেদন অনুভব করতে পারে না। অথচ শিক্ষার প্রতি গুরুত্বারূপ করেই ইসলামের সূচনা হয়েছে।

বেতনভুক্ত দায়ীঃ কোন নবী বা তার উম্মত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বে বেতন নিয়ে পেইড দায়ী হিসেবে কাজ করতেন এমন কোন নজির ইতিহাসে পাওয়া যায় না। বরং সকল নবী এবং তার উম্মত দাওয়াতের কাজে জান প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছেন। কুরআনও দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই কথাই বলে। কিন্তু আপনারা প্রফেশনাল দায়ী তৈরি করছেন। এই প্রফেশনাল দায়ীগণ কি জীবনের ঝুঁকি নিতে পারবেন? বিশেষ করে করে যারা প্রফেশন হিসেবেই এই কাজকে বেঁছে নিবে তারা কি বড় বিপদের সময় দল ছেড়ে পালাবে না? তাছাড়া রাষ্ট্র গঠনের পূর্বে এই বেতভুগী স্বার্থলোভী দায়ী তৈরির কোন দলীল কি আপনারা দেখাতে পারবেন?

বেতনভোগী দায়িত্বশীল তৈরির কুফলঃ

ক) জি-হুজুর মার্কা কর্মীঃ  অফিসের বস ও কর্মচারীর ন্যায় জি হুজুর মার্কা অনুগত ও গৃহপালিত কর্মী তৈরি হয়। যারা স্বার্থের কারনে ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলকে সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ দিতে ভয় পায়। ফলে দায়িত্বশীলদের পরিশুদ্ধির পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন বেতভুক্ত অনুসারী কি নেতার ভুলগুলো নিঃস্বঙ্কচিত্ত্বে ধরিয়ে দিতে চাইবে? যেখানে স্বার্থ হারানোর শঙ্কা আছে? 

খ) নেতার সমালোচনার ভয় ও অন্ধ আনুগত্যঃ তারা রোবটের ন্যায় নেতার আনুগত্য করে। কারণ নেতার ভুল ধরলে যদি তার প্রতি বিরক্ত হয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়, তাহলে তো সংসার চলবে না। তাছাড়া উপার্জনের অন্য কোন উপায় তো তার শেখা নেই।

গ) সমালোচনা গ্রহণে অনিহাঃ আমি তাদের ফেসবুক পেজে কয়েকটি স্থানে একটি দাওয়াতী নীতির বিপরীতে পরামর্শ দিয়েছিলাম। না কেউ পক্ষে কথা বলেছে, না বিপরীতে কোন কমেন্ট করেছে। ভাবখানা এমন যে, কি বলে আবার নেতার রোষানলে পড়ে যাই। নেতা যদি মন খারাপ করে দায়িত্ব থেকে বাদ দিয়ে দেয় তবে তো পেট চলবে না! তাই পক্ষে-বিপক্ষে কারও কোন বক্তব্য নেই। একদম দমবন্ধ। কিন্তু যে পোষ্টে কমেন্ট করেছিলাম তাদের সেই পোষ্টের পক্ষে ঠিকই কয়েকটি লাকই কমেন্ট পড়েছে।

ঘ) যোগ্য নেতা তৈরির ভয়ঃ কারণ তার চেয়ে বেশি যোগ্য নেতা তৈরি হলে স্বার্থে ভাগ বসাবে।

ঙ) পরিশ্রমবিমুখ ও বাস্তবতা বিবর্জিত কর্মী বাহিনী তৈরিঃ দাওয়াতী কাজ করেই যদি সংসার চালানো যায় তবে উপার্জনের মূল্য কি বুঝবে? দাওয়াতী কাজের দ্বীনী জজবা অনুধাবনের চেয়ে দুনিয়াবী স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। 



বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০২৫

বিজ্ঞানের উন্নতি যখন প্রকৃতি ধ্বংসের প্রধান হাতিয়ার (২য় কিস্তি)

 


এই পৃথিবীর প্রকৃতি ও পরিবেশ শুরুতে এত উন্নত ও টেকসই ছিল যে আগেকার মানুষেরা হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারতো! কিন্তু মানুষ যখন আরো টেকসই এবং আরো সুন্দর ও উপভোগ্য জীবনের আশায় বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যান্ত্রিক উন্নতি ঘটাতে থাকলো তখন থেকেই পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস হতে শুরু করলো। যদিও যান্ত্রিক উন্নতি ও প্রতিটি গবেষণার ফলে মানুষ তাৎক্ষনিকভাবে কিছুটা লাভবান হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এগুলো পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য বিনষ্ট করতে একেকটা মহামারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। কিভাবে? চলুন দেখে নেয়া যাক-

কীটনাশক তৈরি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ঃ মানুষ পোকা-মাকড়ের হাত থেকে ফসল রক্ষার নামে তৈরি করেছে বিভিন্ন রকমের কীটনাশক। এতে সাময়িকভাকে পোকার আক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় পতিত হয়েছে প্রকৃতি ও পরিবেশ। যেমন-

নতুন রোগের প্রাদুর্ভাবঃ এই কীটনাশকগুলো মানব শরীরে করে নতুন নতুন জটিল রোগ সৃষ্টি করে। আর এই রোগ সারাতে প্রয়োজন পড়ে নানা ধরনের পাওয়াফুল ঔষধ ও এন্টিবায়োটিকের। আর এগুলো গ্রহনের ফলে শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাহত হয়।

মাটির উর্বরতা বিনষ্টঃ কীটনাশকগুলো মাটিতে মেশার ফলে দিন দিন মাটির ঊর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।

উপকারী পাখি ও প্রাণীর ধ্বংসঃ নতুন নতুন এই কীটনাশকগুলো ফসলে প্রয়োগ করার কারণে ফসলের পোকা-মাকড়ের শরীর বিষাক্ত হয়ে যায়। আর পাখিরা এগুলো খেয়ে মৃত্যুবরণ করে। তাছাড়া এই কীটনাশক মাটিতে মিশে ফসলের উপকারী কীট-পতঙ্গ ও প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে। যেমন- কেচু, ব্যাঙ ইত্যাদি। আবার এগুলো বৃষ্টির পানির সাথে মিশে  খাল-বিল এবং নদীতে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে দিনকে দিন মাছ ও পানির জীববৈচিত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। 

সুতরাং কীটনাশক প্রয়োগ করে  সাময়িকভাবে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও এর মাধ্যমে প্রকৃতির অকল্পনীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। সুতারাং এটা নির্দিধায় বালা যায় যে, সাময়িক লাভের তুলনায় ক্ষতির পরিমাণটা আকাশচু্ম্বি।


মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫

বিজ্ঞানের উন্নতি যখন প্রকৃতি ধ্বংসের প্রধান হাতিয়ার (১ম কিস্তি)

 


এই পৃথিবীর প্রকৃতি ও পরিবেশ শুরুতে এত উন্নত ও টেকসই ছিল যে আগেকার মানুষেরা হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারতো! কিন্তু মানুষ যখন আরো টেকসই এবং আরো সুন্দর ও উপভোগ্য জীবনের আশায় বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যান্ত্রিক উন্নতি ঘটাতে থাকলো তখন থেকেই পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস হতে শুরু করলো। যদিও যান্ত্রিক উন্নতি ও প্রতিটি গবেষণার ফলে মানুষ তাৎক্ষনিকভাবে কিছুটা লাভবান হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এগুলো পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য বিনষ্ট করতে একেকটা মহামারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। কিভাবে? চলুন দেখে নেয়া যাক-

চিকিৎসার উদ্ভব ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রবাহমান হ্রাস: ইতিহাস স্বাক্ষী যে, অতীতের মানুষেরা হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারতো। কিন্তু বর্তমান চিকিৎসার উন্নতি নিয়ে গর্ব করা মানুষদের কাছে কি এই প্রশ্নের উত্তর আছে যে, চিকিৎসা শাস্ত্রের তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকার পরও অতীতের মানুষগুলো কিভাবে হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারতো? তাছাড়া চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতির ফলে যেখানে আমাদের আরো দীর্ঘায়ু লাভ করার কথা সেখানে শত বছর বেঁচে থাকাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে! কেন? 

চলুন এর উত্তর খোজার চেষ্টা করি- ডাক্তারগণ বলেন, মানুষের শরীরের মধ্যে রোগ প্রতিরোধী উপাদান রয়েছে। যা শরীর রক্ষায় সৈন্যের মতো কাজ করে। শরীরে কোন জীবাণু প্রবেশ করলে তাকে প্রতিহত করতে যুদ্ধ শুরু করে দেয়।  যখন মানুষ রোগ সারানোর জন্য ঔষধ সেবন করে তখন সে সাময়িকভাবে সেড়ে উঠলেও দীর্ঘ মেয়াদের জন্য তার শরীর একটি বড় দুর্ঘটনায় পতিত হয়। দুর্ঘটনাটি হলো- শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেতে শুরু করে। যে রোগটি সারানোর জন্য সে ঔষধ সেবন করলো পরবর্তীতে ঐ ঔষধ সেবন ছাড়া সেই রোগ থেকে নিরাময় পাওয়া শরীরের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। 

কেননা, এতে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাহত হয় এবং সে বুঝে নেয় যে, এই রোগ প্রতিরোধের জন্য সে একাই যথেষ্ট নয়। এজন্য তার আলাদা শক্তি বা সৈন্য প্রয়োজন। তাছাড়া একটি ঔষদের ডোজ কমপ্লিট না হলে সাময়িকভাবে রোগ কমে গেলেও কিছু জীবাণু নিষ্কৃয় অবস্থায় বেঁচে থাকে। তারপর যখন শরীরে ঔষধের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায় তখন সেই জীবাণু সক্রিয় হয়ে উঠে এবং প্রয়োগকৃত ঔষধের বিপরীতে টিকে থাকতে নিজেকে পরিবর্তন করে আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। 

তারপর ঐ ঔষধে রোগটি সারতে  চায় না। তখন সেই জীবাণুকে ধ্বংস করতে আরেকটু বেশি পাওয়ারের ঔষধের প্রয়োজন হয়.. এভাবে ঔষধের মাত্রা বৃদ্ধি হতে থাকে। আর শরীরের এই সার্বিক অবস্থাটা শীরর তার ডিএনএ’র মধ্যে সঞ্চিত করে রাখে। ফলে মানুষের পরবর্তী প্রজন্ম তথা সন্তানেরাও ডিএনএ’র সেই সঞ্চিত ও পরিবর্তিত রূপ নিয়েই জন্ম লাভ করে। ফলে পরবর্তী প্রজন্মও ঔষধ ছাড়া সেই রোগের প্রতিরোধ করতে পারে না। এভাবেই দিন দিন জীবণু শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং তার প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক তৈরি করতে হচ্ছে। 

আর নতুন নতুন এই এন্টিবায়োটিকগুলো মানুষের শরীরের আভ্যন্তরীন ব্যবস্থাকে ক্রমান্বয়ে দূর্বল করে দিচ্ছে। ফলে মানুষের আয়ুষ্কাল দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। আর তাই এক সময় মানুষ হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারলেও দিন দিন এই উন্নত চিকিৎসাই গুপ্ত ঘাতকের ন্যায় হিতে বিপরীত ফল বয়ে আনছে।

এই অবস্থা থেকে কি মুক্তির কোন উপায় নেই? উত্তর হলো- আছে। আজ মানুষ গবেষণায় এত উন্নতি করেছে যে, তারা জানতে পারে কোন ভিটামিনের অভাবে কী সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া এটাও জানে যে, কোন খাদে কী উপাদান রয়েছ। তাই ব্যবসায়ী মনমানসিকতা থেকে বের হয়ে এসে পৃথিবী ও মানুষের কল্যাণের চিন্তায় ঔষধকে “সহজে নয়” বলতে হবে। তারপর ঔষধের পরিবর্তে খাদ্য উপানকে সরাসরি গ্রহণের পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন করতে হবে। এতেকরে দিন দিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আর এভাবেই এক সময় এই সমস্যার মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।

রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০২৪

ইসলাম কি প্রতারকদের আশ্রয় দিতে বলে?





ভূমিকা: আমাদের দেশের সাধারণ মুসলিমরা কিছু কিছু প্রতারকদের জেনে-শুনে আশ্রয় দিয়ে থাকে এবং এটাকে একটা ভালো এবং সওয়াবের কাজ মনে করে থাকে। আবার এর প্রতিবাদ করাকে পাপের কাজ মনে করে থাকে। আবার এর বাহানা হিসেবে তারা একটি ইসলাম বিদ্বেষী যুক্তি দিয়ে থাকে। যুক্তিটি এরকম যে, তার রিজিক  মেরে আমার কি লাভ? তারমানে, আমরা মনেকরছি তার রিজিক আল্লাহ তায়ালা আমাদের হাতে দিয়ে দিয়েছেন, আর তাই তার ইনকাম অবৈধ জেনেও তাকে বাধা দিলে আল্লাহ আমাদের পাকরাও করবেন। নাউযু বিল্লাহি মিন যালিক। যেসব প্রতারকদের আমরা প্রস্রয় দিয়ে থাকি তার কয়েকটি রূপ নিম্নে তুলে ধরা হলো-

 

নব মুসলিমের নামে প্রতারক: প্রায়শইঃ মসজিদ থেকে বের হওয়ার পথে দেখা যায় দীর্ঘদিন যাবত একই ব্যক্তি নব মুসলিম নাম করে সাহায্য উঠাচ্ছে। এখানে প্রশ্ন হলো-ব্যক্তিটি কি আসলেই নব মুসলিম? তাছাড়া একজন মানুষ নব মুসলিম হলেই কি তাকে ভিক্ষা করতে হবে? ভিক্ষা করা কি ইসলামের শিক্ষা? নাকি ভিক্ষা করে পেট চালানোর ধান্দা হিসেবে এ পথ বেছে নিয়েছে? তাই তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে সাহায্য করা উচিত। নয়তো আমরা প্রতারকের সহযোগী হয়ে যাবো।

 

মেয়ে বিবাহ দানের নামে প্রতারক: কিছু ব্যক্তিকে দেখা যায় বছরের পর বছর মেয়ে বিবাহ দেয়ার নামে মানুষকে প্রতারিত করে টাকা উঠাচ্ছে। এদেরকে প্রস্রয় দিচ্ছে কারা। আপনি ও আমার মতো সাধারণ মুসল্লিরাই। আচ্ছা আমরা যদি এরকম নগন্য ও তুচ্ছ মানুষদের অন্যায়র প্রতিবাদ করতে ভয় পাই তাহলে সমাজের রাঘব বোয়ালদের ঠেকানোর মতো লোক তৈরি হবে তো?

 

চিকিৎসার টাকার নামে প্রতারক: আমার দেখা এক প্রতারক দীর্ঘদিন যাবত চিকিৎসার নাম করে জেলায় জেলায় সফর করে তার পায়ের চিকিৎসার জন্য সাহায্য তোলছে। তার কথায় এমন প্রভাব বিস্তার করতে পারে যে, প্রথমে তার কথা শুনে আমার চোখ দিয়ে পানি চলে এসেছিল। পরে দেখা গেলো এটা তার কথার বাহানা এবং মানুষকে প্রতারিত করার একটি মিথ্যা কাহিনী। আপনি আর আমি যদি এসব ছোট প্রতারকদের ঠেকাতে সাহস করি, তাহলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমাদের থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় প্রতারকদের ঠেকাতে প্রেরণা পাবে।


 

প্রতিবন্ধী অভিনয়কারী প্রতারক: আজকাল কিছু ইউটিউবার প্রতিবন্ধী অভিনয়কারী কিছু ভিক্ষুকদের মুখোশ উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে। আমি মনেকরি এটি একটি ভালো কাজ এবং নেক উদ্দেশ্যে করে থাকলে এসব ইউটিউবার সওয়াবের ভাগী হবে। তবে আমার ধারণা, প্রকৃত অভিনয়কারী ভিক্ষুকের সামান্য অংশই প্রকাশিত হয়েছে। তাই আমাদের করনীয় হলো নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগেও আশ-পাশের কিছু প্রতারকের মুখোশ উন্মোচন করার চেষ্টা করা। এতেকরে প্রকৃত সাহায্যপ্রার্থী ও আসল প্রতিবন্ধীদের উপকার হবে।

 

মাদরাসা ও এতিমখানার উন্নয়নের নামে প্রতারণা: কিছু কিছু প্রতারক মাদরাসা ও এতিমখানার নাম করে ভুয়া রশিদ বানিয়ে হাট-বাজারের দোকানে দোকানে কালেকশন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের কারনে প্রকৃত হকদারগণ বঞ্চিত হচ্ছে। তাই যাচাই-বাছাই না করে দান করলে আপনার টাকা পেয়ে প্রতারকরা আরও উৎসাহিত হবে। একজন প্রতারককে উৎসাহিত করা কি আপনার জন্য ভালো পরিণাম হতে পারে?

 

খাবার খাওয়ার নাম করে টাকা দিয়ে নেশা করাকিছু ব্যক্তির খারাপ গুণ জানা সত্যেও আমরা তাকে টাকা দিয়ে সওয়াবের আশা করি। আমরা বলে থাকি, আমি তো ভালো নিয়তে দিয়েছি, নেশা করবে-না করবে এটা তার ব্যপার, আমার সওয়াবের ঘাটতি হবে না। কথাটি ইসলামী ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক এবং অজ্ঞতার পরিচায়ক। আচ্ছা আপনি যদি জানেন যে, আপনার সন্তান স্কুলের টিফিনের টাকা নিয়ে তা দিয়ে নেশা করে তখন কি তার হাতে নিশ্চিন্তে টাকা দিয়ে দিবেন? যদি না দেন তাহলে আপনার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেশা করবে জেনেও তাকে টাকা দিলে অবশ্যই গুনাহের অংশীদার  হবেন। তাই সন্দেহভাজন সাহায্যপ্রার্থী সাহায্য চাইলে তাদেরকে খাবার খেতে দিন কিন্তু তাদের হাতে টাকা দিবেন না।

 

প্রতারকদের জন্য হুশিয়ারী: বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিতরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তোমরা সত্যকে অবলম্বন কর। কারণ সত্যবাদিতা ভালো কাজে উপনীত করে। আর ভালো কাজ উপনীত করে জান্নাতে। যে মানুষ সত্য বলে ও সত্যবাদিতার অন্বেষায় থাকেএকপর্যায়ে সে আল্লাহর কাছে সত্যবাদী হিসেবে লিখিত হয়ে যায়। আর তোমরা মিথ্যা থেকে দূরে থাক। কারণ মিথ্যা উপনীত করে পাপাচারে। আর পাপাচার উপনীত করে জাহান্নামে। যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে ও মিথ্যার অন্বেষায় থাকেএভাবে একসময় আল্লাহর কাছে সে চরম মিথ্যুক হিসেবে লিখিত হয়ে যায়। (সহীহ মুসলিমহাদীস ২৬০৭)।

 

আমাদের উদাসীনতা ও দায়ভার: এমনও হয়ে থাকে যে,  মসজিদে দাড়িয়ে যে ব্যক্তি সাহায্য চাইছে সে আসলে প্রতারক তা আমাদের জানা। কিন্তু আমরা তা দেখেও না দেখার ভান করি এবং প্রতিবাদ করি না। কারন ইসলাম বিদ্বেষী একটি ধারণা থেকেধারনাটি এমন যে, তার রিজক মেরে আমার কী লাভ? অর্থাৎ একজন মানুষ যতই অন্যায় করুক তার রিজিক নষ্ট করা যাবে না বা তাকে খারপী থেকে ফেরালে গুণাহ হয়ে যাবে আস্তাগফিরুল্লাহ কতই না নিকৃষ্ট আমাদের চিন্তাধারা একজন মানুষ প্রতারণা করে কেজিতে এক ছটাক কম দিলে যেই আপনি ছেড়ে দেন না, সেই আপনিই মসজিদে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষকে প্রতারণা দানকারীর ব্যপারে নিশ্চুপ। প্রকৃতপক্ষে এসব প্রতারকের মুখোশ উন্মোচন করা প্রতিটি মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব শুধু তাই নয় আল্লাহ তায়ালা অন্যায়ের প্রতিবাদকে মুসলিম জাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন।

এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, তোমরই হলে শ্রেষ্ঠ জাতি, মানুষের কল্যাণের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অন্যায় কাজে বাধা প্রদান করবে। (সূরা আল ইমরান: আয়াত,১১০) 

হাদিসে এসেছে, আবু সায়িদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো অন্যায় হতে দেখলে সে যেন হাত দিয়ে তা প্রতিহত করে। যদি তা না পারে, তবে কথা দিয়ে; তাও না পারলে অন্তর দিয়ে (ঘৃণা করবে) এটি ঈমানের দুর্বলতম স্তর। (মুসলিম, হাদিস নং-৭৪)

 

অন্যায়ের প্রতিবাদ না করার ভয়ঙ্কর পরিণাম: হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যার হাতে আমার জীবন তাঁর শপথ করে বলছি, তোমরা অবশ্যই ভালো কাজে মানুষকে আদেশ দেবে এবং অবশ্যই অন্যায় থেকে নিষেধ করবে। যদি তা না করো তা হলে আল্লাহ তোমাদের ওপর তার পক্ষ থেকে শাস্তি প্রেরণ করবেন। এরপর তোমরা তার নিকট প্রার্থনা করলেও তিনি কবুল করবেন না (তিরমিজি, হাদিস নং-৪০৬)


🕮আরও পড়ুন...