বিজ্ঞান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিজ্ঞান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫

ভূ-গর্ভস্থ ঘর ও দারুণ কিছু সুবিধা




শুরুকথাঃ প্রতিটি মানুষই চায় তার ঘরটি হোক একটি নিরাপদ ও শান্তির আবাস। আর তাইতো ঘরকে আরামদায়ক করতে ঘরে ব্যবহার করে এসি, ফ্যান আরও কতকিছু। তাছাড়া ঝড়-তোফানের হাত থেকে ঘরকে রক্ষা করতে এর অবকাঠামোকে যতটা সম্ভব শক্তিশালী করে তৈরি করে। তারপরও অনেক সময় এগুলো নানা কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাই ভূ-গর্ভস্থ ঘর হতে পারে এগুলোর শক্তিশালী একটি বিকল্প এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান। কিভাবে? চলুন দেখে নেয়া যাক-

১। প্রাকৃতিক এসিঃ সাধারণ ঘরগুলো ঋতুর  সাথে তাল মিলিয়ে অধিক ঠান্ডা বা উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। ফলে এই ঘরগুলোকে বসবাসযোগ্য করার জন্য ব্যবহার করতে হয় ব্যায়বহুল এসি/ফ্যান ইত্যাদি সরঞ্জাম। তবে যেহেতু তাপ কিংবা ঠান্ডার প্রভাব সহজে মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে না তাই  ভূ-গর্ভস্থ  ঘরটি শীতে তুলনামূলক গরম এবং গরমে তুলনামূলক ঠান্ডা থাকবে। ফলে এ সংক্রান্ত খরচও তুলনামূলক কমে আসবে।

২। ঝড়-তোফান প্রতিরোধীঃ মাটির উপরিভাগে নির্মিত ঘরগুলা ঝড়-তোফানে ভেঙে যায় বা বাতাসে উপড়ে পড়ে যায় এবং চাল বা ছাদ উড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এই ঘর ঝড়-তুফানে ভেঙে পড়া বা উড়ে যাওয়ার আশঙ্কামুক্ত।

৩। ভূমিকম্প সহায়কঃ ভূ-পৃষ্ঠের উপরে নির্মিত ঘরগুলো ভূমিকম্পের জন্য বেশি ঝুকিপূর্ণ। কেননা এগুলো মাটির উপড় দাড়িয়ে থাকে বলে কম্পনে ধ্বসে পড়ে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ঘরগুলো যদি মাটির অভ্যন্তরে হয় তাহলে ধ্বসে পড়ার ঝুকি বহুলাংশে হ্রাস পেয়ে যাবে।

৪। শব্দ দূষণ মুক্তঃ সাধারণ ঘরগুলোতে অযাচিত যে কোন শব্দ অতি সহজেই প্রবেশ করে। কিন্তু ঘরটি ভূ-গর্ভস্থ হলে এটি হবে প্রায় সম্পূর্ণ শব্দ দূষণ মুক্ত ও অধিক নির্জন পরিবেশ। ফলে বিশ্রাম নেয়া বা ঘুম হবে অধিক আরামদায়ক।

৫। অন্যের বিরক্তির কারণ না হওয়াঃ ঘরটি ভূ-গর্ভস্থ হলে যেমন নিজে শব্দ দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে তেমনি এই ঘরে আপনি নিজে অধিক শব্দ করলে অন্য ব্যক্তিরাও এই শব্দ কম শুনতে পাবে। ফলে নিজের সৃষ্ট শব্দ অন্যের বিরক্তির কারণ হবে না।

৬। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রক্ষাকবচঃ দেশে অরাজকতা বা যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও এই ঘর হবে অধিক নিরাপত্তার জায়গা। কেনানা এগুলো সাধারণভাবে দৃশ্যমান না হওয়ায় অধিক হারে আক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।

৭। আবাদি জমি সাশ্রয়ীঃ মানুষ অধিক হারে ভূ-গর্ভস্থ ঘরের দিকে ঝুকলে আবাদি জমিরও অনেকটা সাশ্রয় হবে। 

৮। চোর-ডাকাতের ভয় কমঃ যেহেতু আগমন এবং বহির্গমনের ব্যবস্থা সীমিত তাই চুর-ডাকাত এগুলোতে ঢুকতে যেমন ভয় পাবে তেমনি ধরা পড়লে পালানোরও সুযোগ পাবে না। তাই এগুলোতে চোর ডাকাতের প্রকোপ কম হবে।

৯। ধুলা-বালি মুক্তঃ ঘরটি  ভূ-গর্ভস্থ হওয়ার কারণে ধুলা-বালির আনা-গোনা থাকবে না। ফলে ঘরের পরিবেশ থাকবে অধিক স্বাস্থ্যকর।

১০। অধিক সাশ্রয়ীঃ ঘরটি  ভূ-গর্ভস্থ হওয়ার কারণে ঘরের বাইরের দেয়াল থাকে মাটির সাথে সংযুক্ত। ফলে বাইরের দেয়ালে রং বা সজ্জার জন্য প্রতি বছর আলাদা খরচ করতে হবে না। 

১১। অধিক বিশ্রামোপযোগীঃ  বাতি নিভালেই ঘুমের উপযোগী অন্ধকার পাওয়া যাবে। ফলে দিনের বেলাতেও রাতের মতোই আলোমুক্ত ও বিরক্তিহীন ঘুমের সুযোগ থাকবে।

নেতিবাচক দিকসমূহঃ প্রতিটি ইতিবাচক কর্মের বিপরীতে কিছু নেতিবাচক দিকও থাকে। তেমনি এই ভূ-গর্ভস্থ ঘরেরও কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। যেমন- ক) এই ঘরটি স্যাতে স্যাতে হয়ে যেতে পারে।
খ) দেখার জন্য সর্বদা লাইটের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
গ) ভূমি ধ্বসের ফলে মাটির নিচে চাপা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ইত্যাদি।

শেষকথাঃ প্রতিটি উন্নতির কিছু নেতিবাচক দিকও থাকে। যেমন গাড়ি আবিষ্কারের কারণে কিছু মানুষ গাড়ি এক্সিডেন্টে মারাও যায়, বিদুৎপিষ্ট হয়েও অনেক মানুষ মারা যায়। তবে অধিকহারে সুফল থাকায় যেমন এগুলোকে মানুষ গ্রহণ করে নিয়েছে, তেমনি এই ভূগর্ভস্থ ঘরের আইডিয়াটা গ্রহণ করে নিলেও মানুষ অনেক উপকার পাবে বলে আমার বিশ্বাস। তো গবেষণামূলক এই লেখাটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে? কমেন্টে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। তাছাড়া নতুন নতুন আইডিয়া সম্বলিত লেখা পেতে এই সাইটটি মাঝে মাঝে ভিজিট করতে ভুলবেন না। শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।




মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫

বহনযোগ্য ঘরঃ হতে পারে হাজারও সমস্যার যুগান্তকারী সমাধান


শুরুকথা: বর্তমান সময়ে মানুষ টেকনোলজিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যান-বাহনেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। কিন্তু যেই ঘর হলো মানুষের একান্ত আশ্রয়স্থল, আবেগের জায়গা, পরিবার ও শিশুদের নিরাপত্তার বেষ্টনী, সেই ঘর নিয়ে বৈপ্লবিক কোন চিন্তা-ভাবনা করছে বলে মনে হয় না। আমাদের মনে রাখা দরকার যে, ঘর যত নিরাপদ থাকবে আমাদের পরিবার ও শিশুরা তত নিরাপদ ও বিপদমুক্ত থাকবে। তাছাড়া আমাদের অর্জিত সম্পদ, জরুরী কাগজ-পত্র  ও কষ্টার্জিত সামগ্রিগুলোও সুরক্ষিত থাকবে। আর এই ক্ষতি মোকাবেলার একমাত্র সমাধান হতে পারে বহনযোগ্য বসত ঘর।


বহনযোগ্য ঘরের সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ-

বন্যা মোকাবেলায় সহায়ক: আমাদের বর্তমান অবকাঠামোর ঘরগুলো নির্দিষ্ট একটি স্থানে খোটা গেড়ে বা পাকা ফাউন্ডেশন করে তৈরি করা হয়। ফলে নিচু এলাকার ঘরগুলো বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যায় এবং অবকাঠামো এবং ঘরের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রিগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এই ঘরগুলোতে চাকা যুক্ত করে বহনযোগ্য করা গেলে ঘরের অবকাঠামো যেমন ঠিক থাকবে তেমনি পরিবারকে অন্যের ঘরে উঠার প্রয়োজনও হবে না। এতেকরে যেমন বিশাল কষ্ট থেকে মানুষ মুক্ত থাকবে তেমনি ঘরের প্রয়োজনীয় তৈজস পত্রগুলোও অক্ষত রয়ে যাবে। 


সমাবেশ-ও শৃংখলায় সহায়ক: ঘরগুলো বহনযোগ্য হলে স্থানীয় সভা-সমাবেশ করা সহজ হয়ে যাবে। কারণ তখন কিছু ঘর অস্থায়ীভাবে সরিয়ে সাময়িকের জন্য জায়গা ফাঁকা করে নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে জায়গা সংকটের ব্যাপারটি আর থাকবে না। তাছাড়া সরকার ইচ্ছা করলে যেকোন সময় একটি নির্দেশের মাধ্যমে অবকাঠামোর বিন্যাস পরিবর্তন করতে পারবেন।


নদী ভাঙ্গনে ক্ষতি রোধক: বর্তমান ঘরগুলো বহনযোগ্য না হওয়ার কারনে নদী ভাঙ্গনের সময় তীরবর্তী ঘরগুলো নদীর পানিতে ভেসে যায়। ফলে একজন সাধারণ মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না। স্থানান্তরযোগ্য বা চাকাযুক্ত ঘর হতে পারে এর সুন্দর সমাধান। এতেকরে ঘরগুলো অতি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে এবং ক্ষয়-ক্ষতি রোধ করা সহজ হবে। 


খরচবিহীন ও অক্ষত স্থানান্তর: অনেক সময় মানুষকে ভিটে-মাটি বিক্রি করে অনত্র চলে যেতে হয়। তখন ঘর ভেঙ্গে পুনরায় নতুন স্থানে মেরামতের প্রয়োজন হয়। আর এটা করতে গিয়ে মাঝখানে অনেক সময়, পরিশ্রম আর টাকা নষ্ট হয়। কিন্তু ঘরগুলো শুরুতেই বহনযোগ্য করে তৈরি করা হলে বাড়তি সময়-শ্রম আর টাকা বেঁচে যাবে।


রাস্তা বাড়াতে ও সরকারি জমি উদ্ধারে ঘর থাকবে অক্ষত: ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় হরহামেশাই দেখা যায় যে, সরকারি জমির উপর  বাড়ি তৈরি কারনে বাড়িগুলো ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে অথবা রাস্তা বড় করার জন্য অনেক বাড়ি ভাঙ্গা পড়ছে। কিন্তু যদি বাড়িগুলো বহনযোগ্য হতো তাহলে যেমন টাকা খরচ করে ভাঙ্গার প্রয়োজন হতো না তেমনি ঘরগুলোও ভাঙ্গা পড়তো না।


মেহমান সহায়ক: বিয়ে বা বড় অনুষ্ঠানের সময় মেহমান বাড়িতে থাকার জায়গার সংকুলান হয় না। এমতাবস্থায় বহনযোগ্য ঘর হতে পারে দারুন একটি সমাধান। মেহমান ইচ্ছা করলে নিজের বাড়িটিই মেহমান বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন। আর নয়তো মেজবান তার কাছের প্রতিবেশিদের থেকে কিছু ঘর সাময়িকের জন্য তার জায়গায় এনে মেহমানের থাকার ব্যবস্থা করতে পারবেন।


আবাদি জমি সাশ্রয়: বর্তমান ঘরগুলো নির্ধারিত হওয়ার কারনে বাড়ি এবং আঙ্গিনার অনেক জায়গা স্থায়ীভাবে অকেজু হয়ে পড়ে। বাড়িগুলো বহনযোগ্য হলে কোন জায়গা স্থায়ীভাবে আটকা পড়বে না। ফলে আবাদের জন্য অনেক জায়গা উন্মুক্ত হয়ে যাবে। 


ভাসমান ঘর হতে পারে অনেক সমস্যার সমাধান: যাদের বাসস্থান নদী বা খাল-বিলের পাশে তারা ঘরগুলোতে ভাসমান ব্যবস্থাপনার সুযোগ সুবিধা রখতে পারেন। এতেকরে বন্যা বা জলোচ্ছাসের সময় ঘরগুলো পানিতে না তলিয়ে ভেসে থাকবে। 


চাকা ও ভাসমান উভয় সুবিধাযুক্ত ঘর যে কারনে প্রয়োজন: তাছাড়া প্রয়োজন অনুসারে চাকা ও ভাসতে সক্ষম উভয় ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এতেকরে প্রয়োজনে যেমন এগুলো স্থলের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যাবে, আবার ইচ্ছা করলে তা পানিতেই ভাসমান রাখা যাবে। 

বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০২৫

বিজ্ঞানের উন্নতি যখন প্রকৃতি ধ্বংসের প্রধান হাতিয়ার (২য় কিস্তি)

 


এই পৃথিবীর প্রকৃতি ও পরিবেশ শুরুতে এত উন্নত ও টেকসই ছিল যে আগেকার মানুষেরা হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারতো! কিন্তু মানুষ যখন আরো টেকসই এবং আরো সুন্দর ও উপভোগ্য জীবনের আশায় বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যান্ত্রিক উন্নতি ঘটাতে থাকলো তখন থেকেই পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস হতে শুরু করলো। যদিও যান্ত্রিক উন্নতি ও প্রতিটি গবেষণার ফলে মানুষ তাৎক্ষনিকভাবে কিছুটা লাভবান হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এগুলো পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য বিনষ্ট করতে একেকটা মহামারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। কিভাবে? চলুন দেখে নেয়া যাক-

কীটনাশক তৈরি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ঃ মানুষ পোকা-মাকড়ের হাত থেকে ফসল রক্ষার নামে তৈরি করেছে বিভিন্ন রকমের কীটনাশক। এতে সাময়িকভাকে পোকার আক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদী সমস্যায় পতিত হয়েছে প্রকৃতি ও পরিবেশ। যেমন-

নতুন রোগের প্রাদুর্ভাবঃ এই কীটনাশকগুলো মানব শরীরে করে নতুন নতুন জটিল রোগ সৃষ্টি করে। আর এই রোগ সারাতে প্রয়োজন পড়ে নানা ধরনের পাওয়াফুল ঔষধ ও এন্টিবায়োটিকের। আর এগুলো গ্রহনের ফলে শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাহত হয়।

মাটির উর্বরতা বিনষ্টঃ কীটনাশকগুলো মাটিতে মেশার ফলে দিন দিন মাটির ঊর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।

উপকারী পাখি ও প্রাণীর ধ্বংসঃ নতুন নতুন এই কীটনাশকগুলো ফসলে প্রয়োগ করার কারণে ফসলের পোকা-মাকড়ের শরীর বিষাক্ত হয়ে যায়। আর পাখিরা এগুলো খেয়ে মৃত্যুবরণ করে। তাছাড়া এই কীটনাশক মাটিতে মিশে ফসলের উপকারী কীট-পতঙ্গ ও প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে। যেমন- কেচু, ব্যাঙ ইত্যাদি। আবার এগুলো বৃষ্টির পানির সাথে মিশে  খাল-বিল এবং নদীতে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে দিনকে দিন মাছ ও পানির জীববৈচিত্র ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। 

সুতরাং কীটনাশক প্রয়োগ করে  সাময়িকভাবে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও এর মাধ্যমে প্রকৃতির অকল্পনীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। সুতারাং এটা নির্দিধায় বালা যায় যে, সাময়িক লাভের তুলনায় ক্ষতির পরিমাণটা আকাশচু্ম্বি।


মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫

বিজ্ঞানের উন্নতি যখন প্রকৃতি ধ্বংসের প্রধান হাতিয়ার (১ম কিস্তি)

 


এই পৃথিবীর প্রকৃতি ও পরিবেশ শুরুতে এত উন্নত ও টেকসই ছিল যে আগেকার মানুষেরা হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারতো! কিন্তু মানুষ যখন আরো টেকসই এবং আরো সুন্দর ও উপভোগ্য জীবনের আশায় বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় যান্ত্রিক উন্নতি ঘটাতে থাকলো তখন থেকেই পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংস হতে শুরু করলো। যদিও যান্ত্রিক উন্নতি ও প্রতিটি গবেষণার ফলে মানুষ তাৎক্ষনিকভাবে কিছুটা লাভবান হয়েছে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এগুলো পরিবেশ ও প্রকৃতির ভারসাম্য বিনষ্ট করতে একেকটা মহামারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। কিভাবে? চলুন দেখে নেয়া যাক-

চিকিৎসার উদ্ভব ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রবাহমান হ্রাস: ইতিহাস স্বাক্ষী যে, অতীতের মানুষেরা হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারতো। কিন্তু বর্তমান চিকিৎসার উন্নতি নিয়ে গর্ব করা মানুষদের কাছে কি এই প্রশ্নের উত্তর আছে যে, চিকিৎসা শাস্ত্রের তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকার পরও অতীতের মানুষগুলো কিভাবে হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারতো? তাছাড়া চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতির ফলে যেখানে আমাদের আরো দীর্ঘায়ু লাভ করার কথা সেখানে শত বছর বেঁচে থাকাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে! কেন? 

চলুন এর উত্তর খোজার চেষ্টা করি- ডাক্তারগণ বলেন, মানুষের শরীরের মধ্যে রোগ প্রতিরোধী উপাদান রয়েছে। যা শরীর রক্ষায় সৈন্যের মতো কাজ করে। শরীরে কোন জীবাণু প্রবেশ করলে তাকে প্রতিহত করতে যুদ্ধ শুরু করে দেয়।  যখন মানুষ রোগ সারানোর জন্য ঔষধ সেবন করে তখন সে সাময়িকভাবে সেড়ে উঠলেও দীর্ঘ মেয়াদের জন্য তার শরীর একটি বড় দুর্ঘটনায় পতিত হয়। দুর্ঘটনাটি হলো- শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেতে শুরু করে। যে রোগটি সারানোর জন্য সে ঔষধ সেবন করলো পরবর্তীতে ঐ ঔষধ সেবন ছাড়া সেই রোগ থেকে নিরাময় পাওয়া শরীরের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। 

কেননা, এতে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাহত হয় এবং সে বুঝে নেয় যে, এই রোগ প্রতিরোধের জন্য সে একাই যথেষ্ট নয়। এজন্য তার আলাদা শক্তি বা সৈন্য প্রয়োজন। তাছাড়া একটি ঔষদের ডোজ কমপ্লিট না হলে সাময়িকভাবে রোগ কমে গেলেও কিছু জীবাণু নিষ্কৃয় অবস্থায় বেঁচে থাকে। তারপর যখন শরীরে ঔষধের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায় তখন সেই জীবাণু সক্রিয় হয়ে উঠে এবং প্রয়োগকৃত ঔষধের বিপরীতে টিকে থাকতে নিজেকে পরিবর্তন করে আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। 

তারপর ঐ ঔষধে রোগটি সারতে  চায় না। তখন সেই জীবাণুকে ধ্বংস করতে আরেকটু বেশি পাওয়ারের ঔষধের প্রয়োজন হয়.. এভাবে ঔষধের মাত্রা বৃদ্ধি হতে থাকে। আর শরীরের এই সার্বিক অবস্থাটা শীরর তার ডিএনএ’র মধ্যে সঞ্চিত করে রাখে। ফলে মানুষের পরবর্তী প্রজন্ম তথা সন্তানেরাও ডিএনএ’র সেই সঞ্চিত ও পরিবর্তিত রূপ নিয়েই জন্ম লাভ করে। ফলে পরবর্তী প্রজন্মও ঔষধ ছাড়া সেই রোগের প্রতিরোধ করতে পারে না। এভাবেই দিন দিন জীবণু শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং তার প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী এন্টিবায়োটিক তৈরি করতে হচ্ছে। 

আর নতুন নতুন এই এন্টিবায়োটিকগুলো মানুষের শরীরের আভ্যন্তরীন ব্যবস্থাকে ক্রমান্বয়ে দূর্বল করে দিচ্ছে। ফলে মানুষের আয়ুষ্কাল দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। আর তাই এক সময় মানুষ হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারলেও দিন দিন এই উন্নত চিকিৎসাই গুপ্ত ঘাতকের ন্যায় হিতে বিপরীত ফল বয়ে আনছে।

এই অবস্থা থেকে কি মুক্তির কোন উপায় নেই? উত্তর হলো- আছে। আজ মানুষ গবেষণায় এত উন্নতি করেছে যে, তারা জানতে পারে কোন ভিটামিনের অভাবে কী সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া এটাও জানে যে, কোন খাদে কী উপাদান রয়েছ। তাই ব্যবসায়ী মনমানসিকতা থেকে বের হয়ে এসে পৃথিবী ও মানুষের কল্যাণের চিন্তায় ঔষধকে “সহজে নয়” বলতে হবে। তারপর ঔষধের পরিবর্তে খাদ্য উপানকে সরাসরি গ্রহণের পরামর্শ বা প্রেসক্রিপশন করতে হবে। এতেকরে দিন দিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আর এভাবেই এক সময় এই সমস্যার মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।

শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৪

পানিতে আছে বিজ্ঞানের বিস্ময়



ভূমিকা: পানি ছাড়া প্রাণের অস্তিত্ব অসম্ভব তাই বলা হয়ে থাকে পানির অপর নাম জীবন একটি গ্রহে প্রাণের সন্ধান মিলবে কিনা বা গ্রহটিতে মানুষের বসবাস সম্ভব হবে কি-না তা জানতে বিজ্ঞানীরা প্রথমেই গ্রহটিতে পানির সন্ধান করে কেননা পানি ছাড়া যেমন প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব নয় তেমনি পানিবিহীন গ্রহে মানুষের জন্য বেঁচে থাকাও সম্ভব নয়

খাবারে পানির বিকল্প নেই

আমরা প্রতিনিয়ত কত রকমের খাবার খাই তার হিসাব নেই। আবার অঞ্চল ভেদে মানুষের খাবারের হরেক রকম পার্থক্য দেখা যায়। সুতরাং বলা যায় আপনি শত প্রকারের খাবার বর্জন করলেও ভিন্ন আরেক ধরনের খাবার খেয়ে নিশ্চিন্তে জীবন পার করে দিতে পারবেন। কিন্তু একটি জায়গায় সবাই এক। তা হলো খাবারে পানির ব্যবহার। আপনি যা কিছুই খান না কেন সাথে পানি রাখতেই হবে। এর বিকল্প কেউ চিন্তাই করতে পারে না। এজন্য পানিকে বলা যায়া খাবারেরও খাবার। একটানা কয়েকদিন একই রকম খাবার খেলে মুখে অরুচি ধরে যায়। কিন্তু আমরা যে প্রতিনিয়ত পানি পান করছি- একারণে অরুচি ধরেছে এমন কোন কথা কখনো কেউ শুনতেও পায় নি। আবার একটি খাবার খেতে সাথে কত রকমের উপাদানের প্রয়োজন হয়- লবণ, হরেক রকমের মশলা, আরও কত কিছু! কিন্তু পানি এমন এক ব্যতীক্রম খাবার/পানীয় যার স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য কোন কিছু মেশানোর চিন্তা করতে হয় না। এই পানি সর্বদা এমনিতেই স্বাদে পরিপূর্ণ। বরং এর সাথে কিছু মেশালেই পরিপূর্ণভাবে তৃষ্ণা নিবারণ করা যায় না

শারীরিক প্রশান্তিতে চাই পানি:

আমরা কোন কাজে কঠোর পরিশ্রম করলে আমাদের দেহ ক্লান্ত অবসাদ হয়ে যায়। শরীর ঘেমে একাকার হয়ে যায় এবং শরীরে দূর্বলতা অনুভব হয়।এই ক্লান্তি অবসাদ দূর করতে পানির বিকল্প কিছু নেই।পানির শীতল পরশে ক্লান্ত দেহ-মান শান্ত ফুরফুরে হয়ে উঠে

পরিচ্ছন্নতার মূল উপাদান পানি:

আমাদের শরীরে ময়লা লেগে গেলে প্রথমেই দরকার পানি। তেমনি কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করতেও পানির প্রয়োজন। সাবান না থাকলে হয়তো পরিষ্কার করা কিছুটা কষ্টসাধ্য হবে, কিন্তু পানি ছাড়া তা একেবারেই অসম্ভব। আমাদের চারপাশের সবকিছু পারিচ্ছন্ন রাখার এবং পরিষ্কার করার মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয় পানি

পানির অবস্থা বিস্ময়:

পানিই একমাত্র উপাদান যা প্রকৃতিতে তিনটি অবস্থাতেই বিরাজমান।যথা- কঠিণ, তরল বায়বীয়। পানিকে উত্তপ্ত করতে থাকলে তা আয়তনে বেড়ে যায় এবং পানির চেয়ে হালকা হয়ে যায় আবার শীতল করে বরফে পরিণত করলেও তা পানির চেয়ে আয়তনে বেড়ে যায় এবং হালকা হয়ে যায়। ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করলে আপনি অবাক হতে বাধ্য

প্রকৃতির পানি পরিশোধন প্রক্রিয়াঃ 

পানি সবকিছুকে পরিষ্কার করলেও পানিকে পরিশাধন বিশুদ্ধ করা আমাদের জন্য খুবই কঠিণ কাজ। কিন্তু এই পানিকে উত্তমভাবে পরিষ্কার করতে পারে একমাত্র প্রকৃতিই। রোদের উত্তাপে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি গ্যালন পানি বাষ্প হয়ে উপরে উঠে। বাষ্প হলে পানির কণাগুলো এতই ক্ষুদ্র হয় যে এর সাথে কোন রোগ জীবাণু থাকতে পারে না।তাই বৃষ্টির পানি হল প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে মৃদু নিরাপদ। আবার এই পানি যখন বৃষ্টির মাধ্যমে মাটিতে পরে তখন মাটি তাকে এমনভাবে ছেকে নিম্নদেশে শোষণ করে নেয় যে, তার সাথে কোন ময়লা আবর্জনা জীবাণূ প্রবেশ করতে পারে না। ফলে ভূ-গর্ভের পানি হয় পরিষ্কার, নিরাপদ জীবাণুমুক্ত।চিন্তা করলে বুঝতে পারবেন যে, আমাদের প্রতিদিনের মল-মূত্র পঁচা বাশি খাবারের পানিও বাষ্পাকারে পরিশোধিত হচ্ছে এবং কিছু পানি মাটির ছাকুনি প্রক্রিয়ায় পরিশোধিত হচ্ছে। প্রক্রিয়াগুলো চিন্তা করলে আপনাকে অবাক হতেই হবে

পানির গঠনে আছে অবাক তথ্য

যে পানি আমাদের জীবনে এত গুরুত্বপূর্ণ অপরিহার্য সেই পানি মূলত মৌলিক কোন উপাদান নয়। এই পানি গঠিত হয়েছে দুটি গ্যাসিয় পদার্থের সমন্বয়ে! যেই পানিকে আমরা ধরতে পারি স্পর্শ করতে পারি সেই পানি দুটি গ্যাসিয় পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত, যাদেরকে ধরা যায়না, স্পর্শ করা যায় না এবং খালি চোখে দেখাও যায় না! আপনি যদি এগুলো ভেবে অবাক হন তবে আপনার জন্য রয়েছে আরও কিছু বিস্ময়কর তথ্য। যেই পানি ছাড়া আমাদের জন্য তৃষ্ণা নিবারণ সম্ভব হয় না সেই পানির উপাদানের একটি হলো অক্সিজেন (বাতাসে অক্সিজেন হাইড্রোজেনের পরিমাণ যথাক্রমে ২০.৯৫% .০০০০৫৫%) এই করোনাকালীন সময়ে অক্সিজেনের গরুত্ব মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পেলেও পুরোপুরি এর গুরুত্ব অনুধাবন করা মানুষের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। খাবার এবং পানি ছাড়া হয়তো আপনি কয়েকদিন বেঁচে থাকতে পারবেন, কিন্তু অক্সিজেনা ছাড়া এক মুহূর্তও বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেই পানি আমাদের তৃষ্ণা মিটায় এবং শরীরের ক্লান্তি দূর করে সেই পানির উপাদানগুলোই আবার বতাস হয়ে আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসে প্রাণ সঞ্চার করছে।শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলে আমাদের শরীর ফেটে যায়। আর যদি বাতাসে জলীয় বাষ্প একেবারে না থাকে তবে বাতাসের এক ঝাপটায় আমাদের দেহ ফেটে চৌচির হয়ে যাবে

পানি সম্পর্কিত আরও কিছু তথ্য

পানিকে বলা যায় অফুরন্ত শক্তির এক বিশাল ভান্ডার। পৃথিবীর মোট বিদ্যুতের প্রায় ২০% পানি থেকে উৎপাদিত হয় এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের প্রায় ৮৮% উৎপাদিত হয় এই পানি থেকেই।পানি জীববৈচিত্রে পরিপূর্ণ এক উপদান। পৃথিবীর প্রায় ৯৪% প্রাণী বাস করে পানিতে।পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ প্রাণী হলো নীল তিমি, যা পানিতে বসবাস করে।উচ্চতার বিচারে সবচেয়ে বড় পর্বতটি রয়েছে পানির নিচেই। এর নাম হলো মওনা কিয়া। যার মোট উচ্চতা ৩৩ হাজার ৫০০ ফুট। এটি এভারেস্টের চেয়েও প্রায় মাইল বেশি উঁচু। মানুষের ব্যবহৃত  সবচেয়ে বড় যানবাহনগুলো মধ্যে অন্যতম হলো বিভিন্ন জাহাজ, যেগুলো চলে শুধুমাত্র পানিতেই

পানি সম্পর্কিত প্রশ্ন স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুধাবন

আমরা জানি যে, দুটি হাইড্রোজেন অণু এবং একটি অক্সিজেন অণুর (H2O) সমন্বয়ে পানি গঠিত হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে, এই হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনকে একটি পাত্রে লক্ষ কোটি বছর একত্রিত করে রাখলেও পানি তৈরি হবে না যদি না তাতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়। আচ্ছা, এত বিশাল পরিমাণ পানি ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন হাইড্রোজেন অক্সিজেনের সমন্বয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হলো কিভাবে? নাকি এমনি এমনিই হাইড্রোজেন অক্সিজেন একত্রিত হয়ে তাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হয়ে পানিতে পরিণত হলো? এটা কি আদৌ সম্ভব?