সমস্যা ও প্রতিকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমস্যা ও প্রতিকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫

ভূ-গর্ভস্থ ঘর ও দারুণ কিছু সুবিধা




শুরুকথাঃ প্রতিটি মানুষই চায় তার ঘরটি হোক একটি নিরাপদ ও শান্তির আবাস। আর তাইতো ঘরকে আরামদায়ক করতে ঘরে ব্যবহার করে এসি, ফ্যান আরও কতকিছু। তাছাড়া ঝড়-তোফানের হাত থেকে ঘরকে রক্ষা করতে এর অবকাঠামোকে যতটা সম্ভব শক্তিশালী করে তৈরি করে। তারপরও অনেক সময় এগুলো নানা কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাই ভূ-গর্ভস্থ ঘর হতে পারে এগুলোর শক্তিশালী একটি বিকল্প এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান। কিভাবে? চলুন দেখে নেয়া যাক-

১। প্রাকৃতিক এসিঃ সাধারণ ঘরগুলো ঋতুর  সাথে তাল মিলিয়ে অধিক ঠান্ডা বা উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। ফলে এই ঘরগুলোকে বসবাসযোগ্য করার জন্য ব্যবহার করতে হয় ব্যায়বহুল এসি/ফ্যান ইত্যাদি সরঞ্জাম। তবে যেহেতু তাপ কিংবা ঠান্ডার প্রভাব সহজে মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে না তাই  ভূ-গর্ভস্থ  ঘরটি শীতে তুলনামূলক গরম এবং গরমে তুলনামূলক ঠান্ডা থাকবে। ফলে এ সংক্রান্ত খরচও তুলনামূলক কমে আসবে।

২। ঝড়-তোফান প্রতিরোধীঃ মাটির উপরিভাগে নির্মিত ঘরগুলা ঝড়-তোফানে ভেঙে যায় বা বাতাসে উপড়ে পড়ে যায় এবং চাল বা ছাদ উড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু এই ঘর ঝড়-তুফানে ভেঙে পড়া বা উড়ে যাওয়ার আশঙ্কামুক্ত।

৩। ভূমিকম্প সহায়কঃ ভূ-পৃষ্ঠের উপরে নির্মিত ঘরগুলো ভূমিকম্পের জন্য বেশি ঝুকিপূর্ণ। কেননা এগুলো মাটির উপড় দাড়িয়ে থাকে বলে কম্পনে ধ্বসে পড়ে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ঘরগুলো যদি মাটির অভ্যন্তরে হয় তাহলে ধ্বসে পড়ার ঝুকি বহুলাংশে হ্রাস পেয়ে যাবে।

৪। শব্দ দূষণ মুক্তঃ সাধারণ ঘরগুলোতে অযাচিত যে কোন শব্দ অতি সহজেই প্রবেশ করে। কিন্তু ঘরটি ভূ-গর্ভস্থ হলে এটি হবে প্রায় সম্পূর্ণ শব্দ দূষণ মুক্ত ও অধিক নির্জন পরিবেশ। ফলে বিশ্রাম নেয়া বা ঘুম হবে অধিক আরামদায়ক।

৫। অন্যের বিরক্তির কারণ না হওয়াঃ ঘরটি ভূ-গর্ভস্থ হলে যেমন নিজে শব্দ দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে তেমনি এই ঘরে আপনি নিজে অধিক শব্দ করলে অন্য ব্যক্তিরাও এই শব্দ কম শুনতে পাবে। ফলে নিজের সৃষ্ট শব্দ অন্যের বিরক্তির কারণ হবে না।

৬। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রক্ষাকবচঃ দেশে অরাজকতা বা যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও এই ঘর হবে অধিক নিরাপত্তার জায়গা। কেনানা এগুলো সাধারণভাবে দৃশ্যমান না হওয়ায় অধিক হারে আক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত থাকবে।

৭। আবাদি জমি সাশ্রয়ীঃ মানুষ অধিক হারে ভূ-গর্ভস্থ ঘরের দিকে ঝুকলে আবাদি জমিরও অনেকটা সাশ্রয় হবে। 

৮। চোর-ডাকাতের ভয় কমঃ যেহেতু আগমন এবং বহির্গমনের ব্যবস্থা সীমিত তাই চুর-ডাকাত এগুলোতে ঢুকতে যেমন ভয় পাবে তেমনি ধরা পড়লে পালানোরও সুযোগ পাবে না। তাই এগুলোতে চোর ডাকাতের প্রকোপ কম হবে।

৯। ধুলা-বালি মুক্তঃ ঘরটি  ভূ-গর্ভস্থ হওয়ার কারণে ধুলা-বালির আনা-গোনা থাকবে না। ফলে ঘরের পরিবেশ থাকবে অধিক স্বাস্থ্যকর।

১০। অধিক সাশ্রয়ীঃ ঘরটি  ভূ-গর্ভস্থ হওয়ার কারণে ঘরের বাইরের দেয়াল থাকে মাটির সাথে সংযুক্ত। ফলে বাইরের দেয়ালে রং বা সজ্জার জন্য প্রতি বছর আলাদা খরচ করতে হবে না। 

১১। অধিক বিশ্রামোপযোগীঃ  বাতি নিভালেই ঘুমের উপযোগী অন্ধকার পাওয়া যাবে। ফলে দিনের বেলাতেও রাতের মতোই আলোমুক্ত ও বিরক্তিহীন ঘুমের সুযোগ থাকবে।

নেতিবাচক দিকসমূহঃ প্রতিটি ইতিবাচক কর্মের বিপরীতে কিছু নেতিবাচক দিকও থাকে। তেমনি এই ভূ-গর্ভস্থ ঘরেরও কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। যেমন- ক) এই ঘরটি স্যাতে স্যাতে হয়ে যেতে পারে।
খ) দেখার জন্য সর্বদা লাইটের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
গ) ভূমি ধ্বসের ফলে মাটির নিচে চাপা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ইত্যাদি।

শেষকথাঃ প্রতিটি উন্নতির কিছু নেতিবাচক দিকও থাকে। যেমন গাড়ি আবিষ্কারের কারণে কিছু মানুষ গাড়ি এক্সিডেন্টে মারাও যায়, বিদুৎপিষ্ট হয়েও অনেক মানুষ মারা যায়। তবে অধিকহারে সুফল থাকায় যেমন এগুলোকে মানুষ গ্রহণ করে নিয়েছে, তেমনি এই ভূগর্ভস্থ ঘরের আইডিয়াটা গ্রহণ করে নিলেও মানুষ অনেক উপকার পাবে বলে আমার বিশ্বাস। তো গবেষণামূলক এই লেখাটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে? কমেন্টে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। তাছাড়া নতুন নতুন আইডিয়া সম্বলিত লেখা পেতে এই সাইটটি মাঝে মাঝে ভিজিট করতে ভুলবেন না। শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।




বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, ২০২৫

হাদিস অস্বীকারকারীর অহমিকা চূর্ণকারী প্রশ্ন


ভূমিক: অনেকে ‍বুক ফুলিয়ে বলে, আমি একমাত্র কুরআনকেই মানি, হাদিস মানিনা। হাদিস আবার কোথা থেকে এলো? কুরআনই তো হাদিস! আল্লাহ তো নিজেই বলেছেন, “আমি এই কিতাবে কোনকিছু বাদ রাখিনি” তাহলে হাদিস মানতে হবে কেন? এরকম আহমকি যুক্তি দিয়ে থাকে। অথচ তারা জানে না, একথার দ্বারা নিজেদেরকে তারা কতটা অবাস্তব, অযৌক্তিক, ভ্রষ্ট আর বুকা প্রমাণ করছে। চলুন আলোচনার মাধ্যমে তাদের অহমিকার অসাড়তা দেখে নিই-

কিছু সাধারণ প্রশ্নঃ 

প্রশ্ন- ১ঃ  আচ্ছা, আপনারা কি শুধু হাদিসকেই বিশ্বাস করেন না? নাকি লিখিত অতীত কোন ইতিহাসকেই বিশ্বাস করেন না? যদি অতীতে লেখা কোনকিছুকেই বিশ্বাস না করেন তাহলে এক্ষেত্রে আমার বলার কিছু নেই। আর যদি বলেন শুধুমাত্র হাদিসে বিশ্বাস করেন না সেক্ষেত্রে আমার আপত্তি আছে।

কেননা, হাদিস যেমন আল্লাহ তায়ালা নিজ হাতে সংরক্ষণ করেনি, তেমনি ইতিহাসের কোন বইও সংরক্ষণ করার ওয়াদা করেননি। তাছাড়া এগুলোতে প্রতিটি লেখকের নিজস্ব মনগড়া কিছু ব্যাখ্যা কিংবা নিজ দেশ বা জাতির পক্ষে পক্ষপাতদুষ্টি যুক্ত হয়েছে যা বাস্তবতার সাথে নাও মিলতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো-  তাহলে কেন শুধুমাত্র হাদিসকে অস্বীকার করছেন? আর কেনই বা ইতিহাস বিশ্বাস করছেন? ব্যাখ্যা দিতে পারেবেন?

আর যদি লিখিত কোন অতীত ইতিহাসকে বিশ্বাস না করেন তাহলে আপনাদের যেকোন কথার ব্যাখ্যা হিসেবে অতীতের কোন ঘটনা বা ইতিহাসকে টেনে আনা কি ঠিক হবে? কিন্তু বাস্তবে তো আপনারা তা করছেন?

প্রশ্ন- ২ঃ আপনার হাদিসে অবিশ্বাসের কারণ হলো এটা আল্লাহ সংরক্ষণের ওয়াদা করেন নি এবং মানুষের দ্বারা লিখিত এবং সংরক্ষিত হয়েছে। অর্থাৎ কোন মানুষকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। আপনি জানেন যে, সকল মানুষই কমবেশ মিথ্যা কথা বলে এমনকি আপনার পিতা-মাতাও। তাছাড়া অনেক নারী-পুরুষ আছে যারা তার স্বামী বা স্ত্রীর আড়ালে গুপনে পরকিয়া করে বেড়ায়। এখন প্রশ্ন হলো- আপনি যে বৈধ সন্তান একথা দাবী করার কী ভিত্তি আছে বিশ্বাস ছাড়া? আপনার হাতে প্রমাণ আছে কি?

কিছু ইসলামী প্রশ্নঃ

প্রশ্ন- ১ঃ আপনি যদি হাদিস অস্বীকার করেন তাহলে কিভাবে প্রমাণ করবেন যে, রাসূল (সাঃ) এর চারজন বিশিষ্ট সাহাবী ছিল। তাছাড়া আপনি কিভাবে প্রমাণ করবেন যে, রাসূলের একজন বিশিষ্ট সাহাবীর নাম আবু বকর (রাঃ) এবং তিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা? নাকি আবু বকর, ওমর, ওসসমান ও আলী (রাঃ) প্রমূখ সাহাবীদেরকে অস্বীকার করেন? যেহেতু তাদের নাম কুরআনে নেই!!?

প্রশ্ন-২ঃ আল্লাহ তায়ালা নিজে কুরআন তিলাওয়াত করে আপনাকে শুনাননি। আবার তিনি আপনাকে পাথরে বা কাগজে লিখেও দেননি। আপনার হাতে যেই কুরআনটি আছে এই কুরআন যুগ যুগ ধরে মানুষই লিখেছে এবং সংরক্ষণ করেছে। এখন আপনি কি আল্লাহর কাছ থেকে সেই কিতাবটি এনে দেখাতে পারবেন যেটা তিনি নিজে লাওহে মাহফুজে সংরক্ষণ করে রেখেছেন?

তা না হলে কিভাবে যাচাই করবেন যে, মানুষের দ্বারা লিখিত এবং সংরক্ষিত এই কুরআনটি অবিকৃত এবং অপরিবর্তিত রয়েছে?  কারণ আপনাদের ধরণা মুসলিমরা বিশ্বস্ত নয়, তারা মিথ্যা হাদিস তৈরি করেছে। সুতরাং যারা মিথ্যা হাদিস তৈরি করতে পারে তাদের হাতে কুরআন কিভাবে অপরিবর্তিত থাকবে?

মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫

বহনযোগ্য ঘরঃ হতে পারে হাজারও সমস্যার যুগান্তকারী সমাধান


শুরুকথা: বর্তমান সময়ে মানুষ টেকনোলজিতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। যান-বাহনেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। কিন্তু যেই ঘর হলো মানুষের একান্ত আশ্রয়স্থল, আবেগের জায়গা, পরিবার ও শিশুদের নিরাপত্তার বেষ্টনী, সেই ঘর নিয়ে বৈপ্লবিক কোন চিন্তা-ভাবনা করছে বলে মনে হয় না। আমাদের মনে রাখা দরকার যে, ঘর যত নিরাপদ থাকবে আমাদের পরিবার ও শিশুরা তত নিরাপদ ও বিপদমুক্ত থাকবে। তাছাড়া আমাদের অর্জিত সম্পদ, জরুরী কাগজ-পত্র  ও কষ্টার্জিত সামগ্রিগুলোও সুরক্ষিত থাকবে। আর এই ক্ষতি মোকাবেলার একমাত্র সমাধান হতে পারে বহনযোগ্য বসত ঘর।


বহনযোগ্য ঘরের সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ-

বন্যা মোকাবেলায় সহায়ক: আমাদের বর্তমান অবকাঠামোর ঘরগুলো নির্দিষ্ট একটি স্থানে খোটা গেড়ে বা পাকা ফাউন্ডেশন করে তৈরি করা হয়। ফলে নিচু এলাকার ঘরগুলো বন্যার সময় পানিতে তলিয়ে যায় এবং অবকাঠামো এবং ঘরের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রিগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এই ঘরগুলোতে চাকা যুক্ত করে বহনযোগ্য করা গেলে ঘরের অবকাঠামো যেমন ঠিক থাকবে তেমনি পরিবারকে অন্যের ঘরে উঠার প্রয়োজনও হবে না। এতেকরে যেমন বিশাল কষ্ট থেকে মানুষ মুক্ত থাকবে তেমনি ঘরের প্রয়োজনীয় তৈজস পত্রগুলোও অক্ষত রয়ে যাবে। 


সমাবেশ-ও শৃংখলায় সহায়ক: ঘরগুলো বহনযোগ্য হলে স্থানীয় সভা-সমাবেশ করা সহজ হয়ে যাবে। কারণ তখন কিছু ঘর অস্থায়ীভাবে সরিয়ে সাময়িকের জন্য জায়গা ফাঁকা করে নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে জায়গা সংকটের ব্যাপারটি আর থাকবে না। তাছাড়া সরকার ইচ্ছা করলে যেকোন সময় একটি নির্দেশের মাধ্যমে অবকাঠামোর বিন্যাস পরিবর্তন করতে পারবেন।


নদী ভাঙ্গনে ক্ষতি রোধক: বর্তমান ঘরগুলো বহনযোগ্য না হওয়ার কারনে নদী ভাঙ্গনের সময় তীরবর্তী ঘরগুলো নদীর পানিতে ভেসে যায়। ফলে একজন সাধারণ মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না। স্থানান্তরযোগ্য বা চাকাযুক্ত ঘর হতে পারে এর সুন্দর সমাধান। এতেকরে ঘরগুলো অতি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে এবং ক্ষয়-ক্ষতি রোধ করা সহজ হবে। 


খরচবিহীন ও অক্ষত স্থানান্তর: অনেক সময় মানুষকে ভিটে-মাটি বিক্রি করে অনত্র চলে যেতে হয়। তখন ঘর ভেঙ্গে পুনরায় নতুন স্থানে মেরামতের প্রয়োজন হয়। আর এটা করতে গিয়ে মাঝখানে অনেক সময়, পরিশ্রম আর টাকা নষ্ট হয়। কিন্তু ঘরগুলো শুরুতেই বহনযোগ্য করে তৈরি করা হলে বাড়তি সময়-শ্রম আর টাকা বেঁচে যাবে।


রাস্তা বাড়াতে ও সরকারি জমি উদ্ধারে ঘর থাকবে অক্ষত: ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় হরহামেশাই দেখা যায় যে, সরকারি জমির উপর  বাড়ি তৈরি কারনে বাড়িগুলো ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে অথবা রাস্তা বড় করার জন্য অনেক বাড়ি ভাঙ্গা পড়ছে। কিন্তু যদি বাড়িগুলো বহনযোগ্য হতো তাহলে যেমন টাকা খরচ করে ভাঙ্গার প্রয়োজন হতো না তেমনি ঘরগুলোও ভাঙ্গা পড়তো না।


মেহমান সহায়ক: বিয়ে বা বড় অনুষ্ঠানের সময় মেহমান বাড়িতে থাকার জায়গার সংকুলান হয় না। এমতাবস্থায় বহনযোগ্য ঘর হতে পারে দারুন একটি সমাধান। মেহমান ইচ্ছা করলে নিজের বাড়িটিই মেহমান বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন। আর নয়তো মেজবান তার কাছের প্রতিবেশিদের থেকে কিছু ঘর সাময়িকের জন্য তার জায়গায় এনে মেহমানের থাকার ব্যবস্থা করতে পারবেন।


আবাদি জমি সাশ্রয়: বর্তমান ঘরগুলো নির্ধারিত হওয়ার কারনে বাড়ি এবং আঙ্গিনার অনেক জায়গা স্থায়ীভাবে অকেজু হয়ে পড়ে। বাড়িগুলো বহনযোগ্য হলে কোন জায়গা স্থায়ীভাবে আটকা পড়বে না। ফলে আবাদের জন্য অনেক জায়গা উন্মুক্ত হয়ে যাবে। 


ভাসমান ঘর হতে পারে অনেক সমস্যার সমাধান: যাদের বাসস্থান নদী বা খাল-বিলের পাশে তারা ঘরগুলোতে ভাসমান ব্যবস্থাপনার সুযোগ সুবিধা রখতে পারেন। এতেকরে বন্যা বা জলোচ্ছাসের সময় ঘরগুলো পানিতে না তলিয়ে ভেসে থাকবে। 


চাকা ও ভাসমান উভয় সুবিধাযুক্ত ঘর যে কারনে প্রয়োজন: তাছাড়া প্রয়োজন অনুসারে চাকা ও ভাসতে সক্ষম উভয় ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এতেকরে প্রয়োজনে যেমন এগুলো স্থলের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যাবে, আবার ইচ্ছা করলে তা পানিতেই ভাসমান রাখা যাবে। 

শনিবার, ৩ মে, ২০২৫

কুসংস্কারকে পুঁজি করে লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া


দেশের একেক এলাকায় একেক ধরনের কুসংস্কার চালু থাকার কারণে একেক পণ্য পরিহার করা হয়। তাই যে এলাকায় একটি পণ্য পরিত্যাজ্য সেখান থেকে তা বিনামূল্যে বা কম মূল্যে ক্রয় করে চাহিদা রয়েছে এমন এলাকায় বিক্রয় করে লাভবান হওয়া সম্ভব। যেমন-

১। ছাগলের দুধ: আমাদের শেরপুর জেলায় ছাগলের দুধ একেবারেই খাওয়া হয় না। কুসংস্কার হিসেবে কিছু কথা প্রচলিত আছে। যেমন- ক) ছাগলের দুধ খেলে শরীরে ছাগলের মতোই গন্ধ হবে। খ) ছাগলের দুধ খেয়ে রোদে গেলে ছাগলের মতোই তাড়াতাড়ি হাপিয়ে উঠবে বা দড়ফড় করবে।

কিন্তু মেসে থাকার সুবাদে জানতে পারলাম যে, যশোরের মানুষ ছাগলের দুধ খায় এবং কেনা-বেচাও হয়।

 

২। এক টাকার কয়েন: আমাদের এলাকায় এক টাকার কয়েন চলে না। এটা নিয়েও ব্যবসার নতুন আইডিয়া খুলা যাবে। যেমন- দুই/তিন কয়েনে এক টাকার জিনিস বিক্রয় করার অফার দেওয়া এবং ঢাকায় গিয়ে কয়েন ভাঙ্গিয়ে টাকায় রূপান্তর করা।


৩। জট কলা/ জট ফল: আমাদের শেরপুরে কুসংস্কার আছে যে, জট কলা খেলে জট সন্তান হবে। তাই এখানে জট কলা কেউ  কিনতে চায় না। ফলে জট কলা অর্থাৎ দুই কলাকে এক কলা হিসেবে ধরে বিক্রয় করা হয়। তাই ঘুরে ঘুরে জটকলাগুলো কিনলে লাভবান হওয়া সম্ভব। এটা নিয়ে ব্যবসার আইডিয়া বের করা সম্ভব।


৪) কচুরিপানা: আমাদের এলাকায় কচুরিপানাকে শুধুমাত্র ঝামেলার বস্তু হিসেবে গণ করা হয়। তবে ইউটিউবে দেখলাম কচুরিপানার ডাটা দিয়ে হস্তশিল্প তৈরি করা হয় এবং সেগুলো বিক্রিও করা যায়। তো এগুলো সংগ্রহ করে শুকিয়ে বিক্রি করা সম্ভব।


৫) কিছু ফল ও শাক-সবজি: কিছু ফল ও শাক-সবজি রয়েছে যা কিছু কিছু এলাকায় আগাছা বলে গণ্য হয় আবার সেই ফল বা শাক-সবজিগুলো অন্য এলাকার মানুষ খেয়ে থাকে সেগুলো খোজে খোজে সংগ্রহ করা এবং চাহিদাসম্পন্ন এলাকায় বিক্রয় করা।

পরিশেষে বলবো, আইডিয়াগুলো বাস্তবসম্মত হয়েছে কি-না তা কমেন্ট করে জানিয়ে দিন।

রবিবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৪

লোকাল ফ্রিল্যান্সিং: জাতীয় উন্নয়নের এক যুগান্তকারী আইডিয়া


ভূমিকা: বর্তমানে “ফ্রিল্যান্সিং” ক্যারিয়ারের জগতে বিপ্লব সাধন করতে সক্ষম হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং করে বিশ্বের অসংখ্য মানুষ আজ নিজেদের জীবনমান উন্নত করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু এরপরও আইটি জগতের বাইরে এই ফ্রিল্যান্সিং কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। বরং বলাচলে আইটি জগতের বাইরের মানুষ এই ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে এখনো অবগত নয়। কিন্তু আমার বিশ্বাস যদি ফ্রিল্যান্সিং এর ধারণা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং স্থানীয়ভাবে এর প্রয়োগ করা যায় তবে বিশ্বময় উন্নয়নের গতি আরও বহুগুন বৃদ্ধি পাবে। তাহলে চলুন ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-


ফ্রিল্যান্সিং কী? : ফ্রিল্যান্সিং হল কাজের এমন একটি পদ্ধতি যেখানে গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কাজ আহ্বান করে। আর ফ্রিল্যান্সারগণ বা কর্মীগণ সেই কাজে অভিজ্ঞ হলে এবং কাজের বিনিময় তার উপযুক্ত মনে হলে সেই কাজটি করে দেয়ার জন্য সম্মত হয়। এর মাধ্যমে গ্রাহক এবং ফ্রিল্যান্সার উভয়েই লাভবান হয়। কেননা, গ্রাহকের যেমন ছোট একটি কাজের জন্য পুরো দিনের বা পুরো মাসের বেতন গুনতে হয় না, তেমনি একজন অভিজ্ঞ কর্মী বা ফ্রিল্যান্সারও একটি নির্দিষ্ট বেতনে একটি অফিসে আটকে না থেকে তার পারদর্শিতা দিয়ে একাধিক লোকের কাজ করে বেশি টাকা ইনকাম করতে পারে।


ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শুরু হলো? উন্নত দেশগুলোতে একজন আইটি এক্সপার্টকে তার মর্যাদা অনুযায়ী একটা ভালো পরিমাণ বেতন দিতে কোম্পানীগুলো বাধ্য থাকে। কিন্তু কিছু কিছু কাজের জন্য কোম্পানীগুলোর পক্ষে যেমন এত বেশি বেতন বহন করা বাস্তব সম্মত হয় না তেমনি একজন এক্সপার্টের জন্যও অল্প বেতন পোষায় না। সেই পরিস্থিতে কোম্পানীগুলো কিছু কিছু কাজের জন্য

ফ্রিল্যান্সিং এর গুরুত্ব অনুভব করে। তারা ছোট ছোট কাজের জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সোস্যাল মিডিয়ার দ্বারস্থ হয়। তারা দেখতে পায় যে,অনুন্যত দেশগুলোতে ডলারের রেট বেশি হওয়ায় খুব কম টাকায় নেট দুনিয়া থেকে কাজ আদায় করে নেওয়া যায়। আর এভাবেই ফ্রিল্যান্সিং এর যাত্রা শুরু হয়।


স্বাভাবিক দৈনিক কাজের প্রক্রিয়াঃ আমাদের দেশে একজন দিনমজুর তার কাজে জন্য খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হয় আর সন্ধ্যা অবধি কাজ করতে হয় । সে ইচ্ছা করলেই বেলা ১২ টায় কর্মস্থলে উপস্থিত হতে পারে না। দেরি করার কারনে তার ঐ দিন পুরোপুর কাজ বন্ধ রাখতে হয়। তাছাড়া যদি তাকে কাজে নেওয়া হয় তবে তাকে পুরো দিনের বেতন দিতে হবে বলে সামাজিক স্বীকৃতি রয়েছে। তাই দেরী হলে যেমন কর্মী কর্মস্থলে হাজির হয় না তেমনি পুরো দিনের বেতন দিতে হবে বলে প্রধান মিস্ত্রীও তাকে কাজে নিতে চায় না। ফলে উভয়পক্ষই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর এজন্যই লোকাল ফ্রিল্যান্সিং এখন সময়ের দাবি। 


সম্ভাবনাময় লোকাল ফ্রিল্যান্সিং যেভাবে শুরু করা যাবে:


কর্মঘন্টা অনুযায়ী পারিশ্রমিক প্রদান: পূর্ববর্তী ঘটনার প্রধান মিস্ত্রী যদি একটা নিয়ম করে যে, একজন কর্মী যে কয় ঘন্টা কাজ করবে সে তদানুযায়ী পারিশ্রমিক পাবে। ধরি, ভোর ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত পূর্ণ কর্মদিবস। দৈনিক কাজের বেতন ৬০০ টাকা। তাহলে প্রতি ঘন্টার বেতন হয় (৬০০/১০) = ৬০ টাকা। সুতরাং কেউ দেরী করলে তার কর্মঘন্টা অনুযায়ী বেতন পাবে। এতেকরে কাজের যেমন ঘাটতি হবে না তেমনি কর্মী দেরী করার কারণে একেবারে বঞ্চিত হবে না।


প্রডাকশন অনুযায়ী পারিশ্রমিক প্রদান: কিছু কিছু কর্মস্থল থাকবে সবার জন্য উন্মুক্ত। সেখানে একজন কর্মী যে কোন সময় এসে যে কোন পরিমান পণ্য তৈরি করে ইচ্ছামতো সময়ে চলে যেতে পারবে। এতেকরে কর্মীগণ যেমন নিজেকে পরাধিন মনে করবে না তেমনি কর্মীসংখ্যা অধিক থাকায় কাজের গতিও হবে বেশি।


লোকাল ফ্রিল্যান্সিং এর সুবিধাসমূহ: লোকাল ফ্রিল্যান্সিং শুরু হলে মালিক পক্ষ এবং কর্মী উভয়েই লাভবান হবে। যেমন- কোন মালিকের কোন একটি কাজের বিশেষ চাপ তৈরি হলে সে তৎক্ষনাৎ কর্মী আহ্বান এবং হায়ার করে নিতে পারবে। আবার অভিজ্ঞ কর্মীগণ একই দিনে একাধিক জায়গায় একাধিক মালিকের কাজ করে অধিক লাভবান হতে পারবে। তাছাড়া কর্মীগণ পালাবাদল হলে, পরবর্তী কর্মী নতুন উদ্যমে কাজ করার জন্য পূর্ণ সামর্থ্যবান থাকবে। আর এতেকরে কাজের হারও বৃদ্ধি পাবে। আবার পালাবদলের ফলে কর্মীগণ তাদের নিজস্ব কাজ এবং প্রয়োজনও পূরণ করে নিতে পারবে, যা সার্বিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
 আবার নিজস্ব কাজ এবং প্রয়োজন পূরণের ফলে কর্মীগণ মানসিকভাবেও প্রশান্তি পাবে।

শেষকথাঃ ফ্রিল্যান্সিং এর ধারণা প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ুক এবং দৈনন্দিন প্রতিটি কাজে এর প্রয়োগ নিশ্চিত করে সবাই উপকৃত হোক পাশাপাশি উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হোক এই প্রত্যাশায় আজকের লেখা এখানেই শেষ করলাম।

বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৪

খারাপ বা পর্ণ সাইট অনুসন্ধান বন্ধ করতে পিসি ও মোবাইলের সেটাপ

 


ভূমিকাঃ আজকাল উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের হাতে কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন গেলে তারা খারাপ বা পর্ণসাইটগুলো অনুসন্ধান করতে চায়। এই সমস্যার মোকাবেলায় অভিভাবকগণ তাদের সন্তানের কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনে নিম্নোক্ত সেটাপগুলো দিয়ে রাখতে পারেন-

পিসিতে যে সেটাপগুলো দিবেনঃ

১) ওয়েব ফিল্টারিং সফটওয়্যার: অ্যাপ্লিকেশনগুলি ব্যবহার করুন যেগুলি ইন্টারনেটে অগ্রাহ্য কন্টেন্টের অ্যাক্সেস প্রতিরোধ করে। এই সফটওয়্যারগুলির মধ্যে কিছু উদাহরণ হলো- Net Nanny, Qustodio, এবং Covenant Eyes

২) ওয়েব ব্রাউজারের নির্দেশিকা: কিছু ওয়েব ব্রাউজার বিনামূল্যে স্থানীয় বা অনলাইনে অসম্পূর্ণ সার্চ সংশোধন ব্যবহার করে অস্থায়ী পর্নোগ্রাফি অবজেক্টগুলি ফিল্টার করতে পারে।

৩) প্রতিবন্ধী ওয়াল সফটওয়্যার: কিছু সফটওয়্যার সিস্টেমের মধ্যে স্থানীয় কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফি সাইটের অ্যাক্সেস প্রতিরোধ করার সুযোগ সরবরাহ করে।

৪) প্রোসি সার্ভার সেটআপ: বা হোম রাউটারে প্রোসি সার্ভার সেটআপ করা যেতে পারে, যাতে সমস্ত ইন্টারনেট অ্যাক্সেস গ্রাহকের উত্তাপে অগ্রাহ্য কন্টেন্ট সার্ভারের মাধ্যমে ফিল্টার করা যায়।

এনড্রয়েড ফোনের সেটাপঃ এন্ড্রয়েড ফোনে পর্নোগ্রাফি সাইটে অনুসন্ধান বন্ধ করতে নিম্নলিখিত ধাপগুলি অনুসরণ করা যেতে পারে:

ফোনের সেটিংসে যান: আপনার এন্ড্রয়েড ফোনের সেটিংসে যান।

সেকিউরিটি অপশন সনাক্ত করুন: সেকিউরিটি অপশনে ক্লিক করুন এবং সেটিংস মেনুতে ঢুকুন।

সার্চবারে লিখুন: "Safe Search", "Filtering ", বা "Site Blocking" সার্চ করুন।

অপশনগুলো দেখুন: আপনি এখানে বিভিন্ন সেফ সার্চ এবং ফিল্টারিং বিকল্প পাবেন। অনেক সময় এই অপশনগুলি "Google" বা "Open Development" সেবাগুলির মধ্যে পাওয়া যায়।

ফিল্টারিং সেট করুন: আপনি সেফ সার্চ অথবা অনুসন্ধান ফিল্টারিং সেট করুন যেন পর্নোগ্রাফি সাইটের অনুসন্ধান বন্ধ হয়।

সেটিংস সেভ করুন: আপনার পছন্দ সেটিংস সেভ করুন যেন আপনি সুরক্ষিত থাকেন এবং অপরাধ বন্ধ করতে পারেন।

এছাড়াও, আপনি এন্ড্রয়েড এ্যাপ স্টোর থেকে পর্নোগ্রাফি সাইট ব্লক করার জন্য অনেক অ্যাপস পাবেন যেগুলি আপনার ব্রাউজিং নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য রাখবে।

সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০২৪

প্রেমের ফাঁদ থেকে ছোটদের বাঁচিয়ে রাখার কৌশল


ভূমিকাঃ সাংস্কৃতিক অবক্ষয় বলুন আর সহশিক্ষা ব্যবস্থার ফলই বলুন, বাস্তবতা হলো— প্রতিনিয়ত অসংখ্য কুমলমতি ও মেধাবী ছোট ছোট শিক্ষার্থী প্রেম নামক সর্বনাশা মোহে জড়িয়ে পড়ে অংকুরেই ঝড়ে পড়ছে। এদেরকে সঠিক সময়ে সচেতন করতে না পারার দরুণ এই জাতি অসংখ্য মেধাবীকে প্রতিনিয়ন হারিয়ে ফেলছে। এই নিবন্ধে আমি সর্বনাশা প্রেমের গ্রাস থেকে ছোটদের বাঁচিয়ের রাখার সূক্ষ্ম কিছু কৌশল শেয়ার করবো — যেগুলো প্রয়োগ করতে পারলে ছোটদেরকে এই মারাত্মক ব্যাধি থেকে রক্ষা করা সহজ হবে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

প্রাথমিক কাজঃ কোন শিশু একবার প্রেমের ফাঁদে জড়িয়ে পড়লে সেই মোহ থেকে তাকে ফেরানো খুবই মুশকিলের কাজ। তাই সে এই মোহে জড়ানোর পূর্বেই আপনি নিম্নোক্ত প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন:—

নৈতিক শিক্ষাঃ আপনি শিশুকে এমনভাবে নৈতিক শিক্ষা দিন, যেন সে নিজ থেকেই প্রেম নামক অশ্লিলতাকে বড় পাপ হিসেবে জানে এবং একে ঘৃণা করতে পারে। আপনি তাকে ইসলামের আলোকে জানান যে এগুলো যেনার মতো মহাপাপ এবং এর ফলে পরকালে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তাছাড়া যারা এসব অশ্লীলতা করে বেড়ায় তাদের ভাগ্যে অশ্লীল নারী/পুরুষই জোটবে। পারিবারিকভাবে তারা কখনোই শান্তির দেখা পায় না। তাছাড়া এসব মানুষকে সমাজের মানুষ কখনোই সম্মানের চোখে দেখে না। সকলেই এদেরকে ঘৃণা করে। 

কুফলের দৃষ্টান্তঃ পাড়া মহল্লার কেউ এসব করে বেড়ালে তাদের সম্পর্কে এমন তাচ্ছিল্লের সাথে শিশুদের সামনে উপস্থাপন করুন, যেন শিশুরা বুঝতে পারে এগুলো খুবই গর্হিত কাজ। তাছাড়া তার পরিবারের লোকজন তার কারণে সমাজে কেমন হেয় ও তাচ্ছিল্লে্যর স্বীকার হচ্ছে তা তার সামনে বলুন। শিক্ষার্থী হলে তার পড়ালেখার পূর্বের অবস্থা এবং বর্তমানে তার দায়—দায়িত্ব থেকে পরিবারের মুখ ফিরিয়ে নেয়ার ইতিহাস বর্ণনা কারুন। সর্বোপরি এসব কথা এমনভাবে উপস্থাপন করুন যেন আপনার শিশুরা এসবের কাছাকাছি হোক তা কখনোই বরদাস্ত করতে পারবেন না। 

পরবর্তী কাজঃ যখন দেখবেন যে, আপনার শিশুটি প্রেমের ফাঁদে ইতোমধ্যে জড়িয়ে পড়েছে— তখন নিম্নোক্ত কৌশলগুলো প্রয়োগ করুন:—

ঘৃণা প্রকাশ ও উপদেশ: শিশুকে এমনভাবে কথা বলুন যেন তার সেই কাজকে আপনি ঘৃণা করেন কিন্তু তাকে নয়। তাকে এসবের মন্দ সম্পর্কে সচেতন করুন। পাড়া মহল্লার অন্যান্য ব্যক্তি পূর্বে এসব করে কেমন পরিণতির স্বীকার হয়েছিল সেসব দৃষ্টান্ত বর্ণনা করুন। তার আশু পরিণতি কী হতে যাচ্ছে তা তাকে বুঝিয়ে বলুন। তাছাড়া পরকালে এই পাপের শাস্তি সম্পর্কে হুশিয়ার করুন। হয়তো এসব উপদেশের ফলে শিশুর বিবেক জেগে উঠবে এবং প্রেম নামক অশ্লীলতা বর্জন করবে। 

সহজভাবে শেয়ার করুন: যখন দেখলেন যে, এসব উপদেশও তার জন্য কাজ হচ্ছেনা তখন কি তাকে মারধর করবেন? না তার দরকার নেই। তখন আপনার কৌশল ধীরে ধীরে পরিবর্তন করুন। প্রেম জিনিসটাকে তার সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করতে থাকুন যেন এটা মোহের কোন বিষয়ই নয়। তাছাড়া অমুকের ছেলে কিছুদিন প্রেম করে প্রেমিকাকে বিয়ে না করে অন্যকে বিয়ে করে। ফলে মেয়েটা পড়ালেখায় মন বসাতে পারছে না। আবার অমুকের মেয়ে কলেজে ভর্তি হয়ে পুরাতন প্রেমিককে বাদ দিয়ে নতুন প্রেমিকের সন্ধানে আছে। সুতরাং এগুলো ধুকাবাজি ছাড়া কিছুই নয় এবং এসবের ফাঁদে পড়ে পড়ালেখায় শৈথিল্য প্রদর্শন করা বা কর্মবিমুখ থাকা কোন বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

বন্ধু হোন নিয়ন্ত্রণে আনুন: তাছাড়া আরেকটি কৌশল অবলম্বন করতে পারেন, তা হলো— তার সাথে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি করুন। আপনার ছাত্রজীবনে আপনার অথবা আপনার বন্ধুর প্রেমের ঘটনা মাজা করে বলুন, যেন এটা কোন মোহ নয় মজার বিষয়। এমনকি তার প্রেমিক/প্রেমিকা আজ তাকে কী মেসেজ দিল তা বলতে উৎসাহিত করুন। যখন আপনার সন্তান তার প্রেমিক/প্রেমিকার মেসেজ/চিঠি আপনার সাথে শেয়ার করতে শিখবে তখন ধরে নিন সে আপনার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। সে অত্যধিক খারপ কোন সম্পর্কে জড়াতে পারবে না। সময় মতো তাকে যে কোন ডুজ দিয়ে ফেরাতে পারবেন অথবা লেখাপড়ায় বাধ্য করতে পারবেন।

শেষকথা: শেষ কৌশলগুলোকে মজাদার মনে করে প্রথমেই প্রয়োগ করতে যাবেন না। কারণ এগুলোর ক্ষতিকর অনেক দিক রয়েছে। যেমন— প্রেমে মত্ত থাকলে পড়ালেখায় কিছু না কিছু ক্ষতি হবেই। তাছাড়া শিশুটি অবশ্যই পিতা মাতা বা প্রেমিক/প্রেমিকাকে ধোকা দেওয়া শিখে নেবে। পরবর্তীতে বৈবাহিক জীবনে সে সন্তুষ্ট থাকতে পারবে না। তাছাড়া নৈতিক অবক্ষয় অপূরণীয় থেকে যাবে সবসময়। সুতরাং সাধু সাবধান!

রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০২৪

যেই বুকামির দন্ড আজীবন বয়ে বেড়াতে হয়


শুরুকথাঃ

বেঁচে থাকার জন্য এবং জীবন নির্বাহের জন্য আমাদেরকে প্রতিদিন বিভিন্ন কাজ করতে হয়, অনেক ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এর মধ্যে কিছু কাজ এবং সিদ্ধান্তে ভুল হয়ে গেলে সেগুলো সহজেই শুধরে নেওয়া যায়। কিন্তু এমন কিছু কাজ বা সিদ্ধান্ত রয়েছে যেগুলো ভুল করে একবার করে ফেললে বা বাস্তবায়ন হয়ে গেলে সেগুলো আর শুধরে নেওয়ার উপায় থাকে না এবং এর মন্দ প্রভাব বা কুফল সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়। আজকের লেখায় এমনি কিছু ভুল বা বুকামি নিয়ে আলোচনা করবো। তাহলে চলুন মূল আলোচনায় প্রবেশ করা যাক-

অন্যের কাছে টাকা আমানত রাখা বা সঞ্চয় করাঃ  

কিছুদিন পূর্বে ফেসবুকে একটি ভিডিও খুব ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিওর ঘটনা ছিল এরূপ- এক ব্যক্তি বিদেশ থেকে তার স্ত্রীর নিকট টাকা পাঠিয়ে তা শ্বশুর বাড়িতে সঞ্চয় করতো। দীর্ঘদিন এভাবে টাকা রাখার পর দেশে এসে তা চাইতে গেলে তারা দিতে অস্বীকার করে। ফলে ঝড়গা তৈরি হয় এবং তার স্ত্রীর নেতৃত্বে তাকে তার শ্বশুর ও শ্যালক বেপক মারধর করে। কেউ একজন এটা ভিডিওতে ধারেণ করে ফেসবুকে ছাড়লে তা ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায় সেখানে বর পক্ষের লোকজন কেউ ছিল না যে তার পক্ষ নিয়ে কথা বলবে এবং এর প্রতিবাদ করবে। এজন ব্যক্তি ছিল যে তার বন্ধ হবে হয়তো সে তার শ্বশুর পক্ষের লোকজনকে মার ফেরানো থেকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেই বিদেশীকে ছোট বাচ্চার মত এক ছেলে ব্যাপক মারধর করলেও সে মাটিতে উপুর হয়ে পড়ে রয়েছে। কোন প্রতিবাদ বা নাড়াচাড়াও করছে না। কারণ তাদের কাছে সে এখন ধরা খেয়েছে ।  উক্ত ভিডিওর কমেন্টে লোকজন তার শ্বশুর শাশুরি, শ্যালক বা স্ত্রীকে নয় বরং তাকেই দুষারূপ করতে থাকে। এছাড়াও অনেক ঘটনা এরূপ শুনা যায় যে, গ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে অনেকেই অপরিচিত ও অজানা ব্যক্তিকে আত্মীয় বানিয়ে তাদের কাছে টাকা গচ্ছিত রাখে। একসময় তা চাইতে গেলে তা আর কখনো ফিরে পায় নি। তাই সাবধান! নিজের ইনকামের টাকা নিজের কাছেই রাখুন। অন্যকে অযথা বিশ্বাস করার দরকার নেই। যদি অন্যের কাছে টাকা রাখতেই হয় তবে তা মা বাবার কাছে রাখুন নিরাপদে থাকবে। যদি তারা খেয়েও ফেলে তবুও মনে আফসোস থাকবে না। কেননা তারা তো প্রতিদানের আশা ছাড়াই আপনাকে মায়া-মমতা দিয়ে লালন পালন করে বড় করেছে।

গুপন পাপ বা অপরাধের কথা স্ত্রী বা বন্ধুদেরকে বলাঃ 

আমাদের প্রতিবেশি এক দাদা একদিন আমাকে একটি গল্প শোনান। গল্পটির মূলকথা ছিল এরূপ- এক লোক একদা বৃষ্টির দিনে আনমনা হয়ে হাসতেছিল। তা দেখে তার স্ত্রী প্রশ্ন করলো- তুমি হাসছো কেন? লোকটা কোন উত্তর দিল না। এতে তার স্ত্রী অভিমান করে বললো- তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করতে পারো না? আমি কি তোমার মনের কথা জানতে পারি না? ইত্যাদি। যেহেতু তাদের মধ্যে যথেষ্ট ভালবাসা ছিল তাই স্ত্রীর পীড়াপিড়িতে একটি গুপন অপরাধের কথা প্রকাশ করে দিল। ঘটনাটি ছিল এই- লোকটি একদিন তার এক প্রতিবেশিকে শত্রুতার জেরে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল। যখন সে তার প্রতিবেশিকে মারতে যায় তখন ছিল বৃষ্টির দিন। প্রতিবেশি কোন উপায়ান্তর না দেখে বলেছিল- হে বৃষ্টি! একমাত্র তুই ছাড়া এখন আমার কোন স্বাক্ষী নেই। এই খুনির ব্যপারে তুই সবাইকে জানিয়ে দিস! তারপর বহুদিন কেঁটে যায় কেউ কোনদিন সেই খুনের ঘটনা জানতে পারে না। তাই বৃষ্টি এলেই লোকটির হাঁসি পায় এ কথা ভেবে যে, কই? বৃষ্টিতো এতদিনেও সেই খুনের স্বাক্ষী দিল না? এই কথাটা সে তার স্ত্রীকে বলে হাসতে শুরু করল। দিন যায়, মাস যায়। একসময় তার ও স্ত্রীর বন্ধনের মাঝে ফাঁটল তৈরি হলো। একসময় দুইজনের মাঝে প্রচন্ড ঝগড়া বেঁধে গেলো। সেই ঝগড়ার মাঝে শুরু হলো বৃষ্টি। তখন তার স্ত্রীর মনে পড়ে গেলো সেই খুনের ঘটনা। ফলে সে তার স্বামীর থেকে প্রতিশোধ নিতে খুন হওয়া ব্যক্তির আত্মিয়-স্বজনের কাছে সেই ঘটনা ফাঁস করে দিল। ফলে বেচারার অপরাধের প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ফাঁসির আদেশ দিল। 

তাই সাবধান! আজকের মুহব্বতের স্ত্রী বা ঘনিষ্ঠ বন্ধু যে কোন সময় শত্রু হয়ে যেতে পারে। তাই কাউকে গুপন পাপ বা কৃত অন্যায়ের ব্যাপারে বলা মানে চরম বুকামি। এ ভুলের কোন ক্ষমা বা সংশোধনের পথ নেই। 

সমাপনীঃ 

চলার পথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্ষেত্র বিশেষে একটি মাত্র ভুল সিদ্ধান্তই পুরো জীবণকে বিষিয়ে তুলার জন্য যথেষ্ট। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত। লেখাটি ভাল লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করে রাখুন, এতে অন্যরাও উপকৃত হবে। লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

শ্রেষ্ঠ যে খাবারগুলো এদেশে অবহেলিত


ভূমিকা: আমরা যখন পত্রিকা, ফেসবুক এবং ইউটিউবে দেখি, কোন একটি দেশের মানুষ মাছ খায় না, তখন আমরা ভাবি- ইস! যদি সেই দেশে থাকতাম তবে মাছগুলো মজাকরে একাই খেতাম। আবার যখন দেখি বিভিন্ন দেশের মানুষের আত্মীয় স্বজন মারা গেলে সাথে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালঙ্কার ইত্যাদি কবরে রেখে আসে তখন আমারা মনেকরি তারা কতই না বুকা!  যদি সেই দেশে থাকতাম তবে রাতের অন্ধকারে সেগুলো চুপি চুপি নিয়ে নিতাম। কিন্তু আমরা বাঙালিরাও কম বুকা নয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে, আমরাই হয়তো দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ বুকা। কেননা আমরা কুসংস্কারের কারণে সর্বশ্র্রেষ্ঠ খাবারগুলো এখনো বর্জন করে চলছি। এখন নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে সেই খাবারগুলো সম্পর্কে। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক-

মায়ের শালদুধ: 

শ্রেষ্ঠ খাবারের মধ্যে প্রথম তালিকাতেই আছে মায়ের শালদুধ, যা আমরা কুসংস্কারের কারণে আজও বর্জন করে চলছি। আপনি জানলে অবাক হবেন যে, একজন শিশুর জন্য দুনিয়াতে সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার হচ্ছে মায়ের প্রথম দুধ, যা আমরা শালদুধ বলে অবজ্ঞা করে থাকি। ডাক্তারগণ শালদুধ সম্পর্কে বলেন- মায়ের শালদুধ হচ্ছে একটি শিশুর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার। এই দুধ এতই পুষ্টি সমৃদ্ধ এবং জরুরী যে, তাতে রয়েছে শিশুর সর্বরোগের প্রতিষেধক। এই দুধ খেলে শিশুর দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় সবচেয়ে বেশি । শিশুর বেড়ে উঠার জন্য এই দুধের বিকল্প বা সমমানের কোন খাবার পৃথিবীতে নেই। আর তাই তো এই দুধ হয় সবচেয়ে ঘণ। কারণ পুষ্টিতে থাকে তা একেবারে পরিপূর্ণ। কিন্তু আমাদের অজ্ঞতার কারণে আমরা মনেকরি যে, এই দুধ খেলে তা শিশুর গলায় আটকে যাবে। কথাটা খুবই অবাস্তব, অজ্ঞতা আর মূর্খতার পরিচায়ক। যেই খাবারটি শিশুর জন্য আল্লাহ তায়ালা শ্রেষ্ঠ করে, সবচেয়ে উপযোগী করে তৈরি করলেন আমরা তা অজ্ঞতার কারণে বর্জন করলাম। এটা শ্রষ্টার উপর মাতব্বরীর মতই বেয়াদবি এবং অজ্ঞতাই বটে। অথচ এটা ঘন হওয়ার কারণ হলো-এটা একটা শিশুর জন্য জরুরী সব পুষ্টিতে পরিপূর্ণ প্রাথমিক ডোজ। 

গরু, মহিষের শালদুধ: 

মায়ের শালদুধ যেমন পুষ্টিতে পরিপূর্ণ থাকার কারণে প্রাথম দিকের দুধের ঘনত্ব কিছুটা বেশি থাকে, ঠিক একই কারণে গরু, মহিষ ইত্যাদির দুধও বেশি ঘন হয়। আমরা অনেকে এগুলো নিজেরাও খাই না সেই পশুর বাচ্চাদেরও খেতে দেই না। আবার আমাদের এলাকায় একটি কুসংস্কার আছে যে, এই দুধ কুকুরে খেলেও নাকি গাভির দুধ কমে যায়।তার মানে দাড়াচ্ছে এই পুষ্টিকর খাবার আমরা নিজেরাতো খাবোই না, তার বাচ্চাকেও খেতে দেবো না এমনকি কোন প্রাণীকেই না। খুবই অবাক লাগে। আমাদের অজ্ঞতা আমাদেরকে কোথায় নিয়ে ঠেকিয়েছে। এতদৃষ্টে আমার মনে হয়েছে- শ্রেষ্ঠ খাবারগুলো প্রতি আমাদের শুধুমাত্র অনিহাই নয়, এগুলোর প্রতি রীতিমতো শত্রুতা তৈরি করে দিয়েছে আমাদের আজ্ঞতা ও কুসংস্কার। 

ছাগলের দুধ: 

এদেশের অধিকাংশ অঞ্চলের মানুষ আজও ছাগলের দুধ বর্জন করে চলে। ছাগলের দুধ নিয়ে কুসংস্কারও কম নয়। মানুষ মনে করে- এই দুধ খেলে নাকি ছাগলের মতই শরীর দূর্গন্ধময় হবে, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব আর কুসংস্কারাচ্ছন্ন কথা। আবার বলে থাকে- এই দুধ খেলে নাকি ছাগলের মতই রোদের উত্তাপ বেশি সহ্য করা যায় না। এগুলো সবই অবাস্তব্, হাস্যকর আর অবৈজ্ঞানিক কথা। বরং সত্য হলো- ছাগলের দুধ পুষ্টিগুনে গরুর দুধের চেয়েও বেশি সমৃদ্ধ। সচেতন মানুষ চাইলেই অনলাইন বা পত্র-পত্রিকায় এই তথ্যটি যাচাই করে দেখতে পারবেন। 

পরীক্ষার্থীদের খাবারে কুসংস্কা:

আমাদের দেশে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে কুসংস্কার। অধিকাংশ পিতামাতা ছাত্রদের পরীক্ষায় যাওয়ার পূর্বে ডিম খাওয়া বা ডিমের তরকারি দিয়ে খাবার খাওয়া বারণ করে। মনে করা হয় ডিম দিয়ে খাবার খেলে পরীক্ষায় শূন্য পাবে। কারণ, ডিম তো শূন্যের মতোই গোল। কি চমৎকার ব্যাখ্যা! কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে খাবারের সাথে পরীক্ষার ফলাফলের কোনই সম্পর্ক নেই। পরীক্ষায় ভাল করা না করার পিছনে পড়ালেখা এবং অধ্যাবসায়ই দায়ী। কিন্তু কে শোনে করা কথা? পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ডিমের মতো একটি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবারকে এদেশে ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। তাছাড়াও পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলভেদে আরও বেশকিছু খাবারকে কুসংস্কারাচ্ছ করা হয়েছে- যা কোনভাবেই কাম্য নয়।

সমাপনী: 

প্রতিটি সচেতন নাগরিকের উচিত নিজ এলাকায় এসকল কুসংস্কারের মূলোৎপাটনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা এবং এই খাবারগুলোর গুরুত্ব সাধারণ মানুষের সামনে তোলে ধরা। তবেই সমাজ ও জাতি এই খাবারগুলোর সুফল ভোগ করতে পারবে। লেখাটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন- এতে আপনার বন্ধুরাও উপকৃত হতে পারবে। লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

যৌক্তিক কিছু পদক্ষেপ : কয়েকটি জটিল রোগের সমাধান


ভূমিকা: রোগ নেই পৃথিবীতে এমন লোক খুজে পাওয়া দুষ্কর।আমরা সবাই কোননা কোন রোগে প্রায়ই আক্রান্ত হয়ে থাকি। কিছু লোক এমন আছে যারা ছোটখাট কোন রোগ হলেই গপাগপ ঔষধ খাওয়া শুরু করে। তারা জানেনা যে বেশি বেশি ঔষধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভয়াবহ হুমকী। বেশি বেশি ঔষধ সেবনে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। যেই রোগটা আপনার শরীর এমনিতেই প্রতিরোধ করতে পারতো, বেশি বেশি ঔষধ সেবনে শরীরের সেই শক্তিটা শেষ হতে থাকে। একসময় এমন অবস্থা দাড়ায় যে, সামান্য রোগ হলেও ঔষধ সেবন ছাড়া আর ভালো হয় না। তাই আমাদের উচিত প্রথমত রোগ হওয়ার পূর্বেই সতর্ক থাকা, যেন আমাদের অবহেলা ও খদ্যাভাসের অসামঞ্জস্যের কারণে শরীরে রোগ সৃষ্টি না হয়।তারপারও ছোটখাট রোগে আক্রান্ত হলে তার ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উপাদান বা ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন- ফলমুল, মাছ-মাংস ও শাক-সবজি ইত্যাদি খেয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করা।এরপরও যদি শরীর সুস্থ না হয় তখন তো ঔষধের চিন্তা করতেই হবে। আবার কিছু রোগ আছে যেগুলো যৌক্তিক কিছু নিয়ম-কানুন অনুসরণ করেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। আজকের আর্টিকেলটিতে সেই বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করা হবে। তাহলে চলুন জেনে নিই কোন রোগ প্রতিরোধে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার-

১. কোষ্ঠকাঠিণ্য: কোষ্ঠকাঠিণ্য হলে সাধারণত পায়খানা অত্যধিক শুষ্ক হয়ে অনেক আঠালো ও শক্ত হয়ে যায়। ফলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হয়, সহজে পায়খানা হয় না এবং কিছুক্ষণ পর পরই প্রচণ্ড দুর্গন্ধযুক্ত বায়ু আসে। এ অবস্থায় একজন মানুষ নিজেকে নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়ে যায়। মিটিং, সমাবেশ বা ঘরের লোকদের থেকে ভয়ে আলাদা থাকার চেষ্টা করে। কারণ পুতিগন্ধময় অবাধ্য বায়ু সবার বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়ায়। 

কোষ্ঠকাঠিণ্য রোধের/নিরাময়ের যৌক্তিক উপায়ঃ একটা বিষয় সুস্পষ্ট যে, এ রোগে আক্রান্ত হলে বার বার বায়ুচাপ তৈরি হয়। আর এই বায়ুকে নিয়ন্ত্রণ করেই এই রোগ থেকে নিরাময় সম্ভব। যেহেতু ঘন ঘন বায়ুচাপ তৈরি হয় তাই আপনি পর পর দুই-তিনবার বায়ু আটকিয়ে রাখার চেষ্টা করুন। দেখবেন পায়খানার চাপ তৈরি হবে। এর একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যাও আছে। যেহেতু এসময় বার বার বায়ুচাপ তৈরি হয় তাই দুই-তিনবার আটকানোর ফলে পায়খানার থলেতে চাপ সৃষ্টি করে। এতে সহজেই পায়খার বেগ তৈরি হয়। তবে যেহেতু বায়ু নিজেই একটা বর্জ্য, তাই স্বাভাবিক অবস্থায় বায়ুচাপ আটকিয়ে রাখা উচিত নয়।কারন এতেকরে শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাছাড়া কোষ্ঠকাঠিণ্যের সময় তরল জাতিয় খাবার খাবেন, এতে পায়খানা রসালো ও আরমদায়ক হবে।

২. নখের কোণা দেবে যাওয়া: নখের কোণা দেবে যাওয়ার ‍মূল কারণ আমাদের অসবাধানতা। আবার এই অসাবধানতার কারণেই এটা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং যন্ত্রণা দিন দিন বাড়তে থাকে। নখের কোণা দেবে যাওয়ার কারণ হলো নখ কাটার সময় নখের কোণাগুলো একদম চামড়ার সাথে ঘেষে কেটে ফেলা। এভাবে ছোট করে নখ কাটার ফলে নখের কোণা দিয়ে কাদা বা ধুলোবালি ঢুকে পড়ে এবং তা ভিতরে লেগে থাকার ফলে মাংস ফুলে যায়, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং প্রচণ্ড যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। এই যন্ত্রণার কারণে আমরা আবারও ভুল করি। তখন কোণাগুলো আরও কেটে ভিতরের ময়লা বের করার চেষ্টা করি। এতে নখের কোণায় আরও গর্তের সৃষ্টি হয় এবং আরও ময়লা ঢুকে সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। 

প্রতিকারের যৌক্তিক পদক্ষেপঃ আপনাকে এটা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, এই সমস্যার মূল কারণ হলো নখের কোণাগুলো গভীরভাবে কেটে ফেলা।সুতরাং এই সমস্যা প্রতিরোধের প্রধান কাজ হলো নখ কাটার সময় এর কোণাগুলো গভীরভাবে কেঁটে ফেলা যাবে না। আর যদি আপনার অসতর্কতার কারণে নখ দেবে যাওয়া শুরু হয় এবং যন্ত্রণায় ভোগতে থাকেন তবে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন-

ক. সরিষার তেল গরম করে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করুন, এতে যন্ত্রণার উপশম হবে।

খ. বেশি যন্ত্রণা হলে সুই দিয়ে হালকা খুচিয়ে যতদূর সম্ভব ময়লা বের করে দিতে হবে।এক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে যেন খুচানোর ফলে বেশি গর্তের সৃষ্টি না হয়। সেই সাথে সুতি কাপড়ের টুকরো দিয়ে ব্যাথাযুক্ত জায়গা হালকা করে বেধে রাখতে হবে ।এরফলে নখের কোণায় নতুন করে ময়লা ঢুকতে পারবে না। 

গ. কোনভাবেই নখের কোনা কেটে ময়লা বের করার চেষ্টা করা যাবে না। কেননা, কোণা কাটলেই সমস্যা আরও বড় হতে থাকবে।তাই টর্গেট নিয়ে নখের কোণা বড় হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে হবে। 

ঘ. সর্বোপরি, সমস্যা থাকুক আর নাই থাকুক নখের কোণা কখনোই চামড়ার সাথে ঘেষে কাঁটা যাবে না। 

৩. স্যাতস্যাতে ঘা: যাদের শরীর খুব রসালো তাদের শরীরে কোন কারণে ঘা হলে সহজে তা সারতে চায় না। বরং সব সময় কষ পড়ে স্থানটি ভেজা ভেজা থাকে। ফলে সহজে তা শুকায় না। এই সমস্যার সৃষ্টি হলে আপনি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় নেকড়াতে আগুন জ্বালিয়ে সেই আগুন বার বার ঘাযের উপর সেক দিতে থাকুন। এতে উক্ত স্থান শুষ্ক থাকবে ফলে ঘা থেকে খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি পাবেন।

৪. ব্রণ: নির্দিষ্ট একটি বয়সে নারী-পুরুষ সবার মুখেই ব্রণ দেখা দেয় । ব্রণের সবচেয়ে মারাত্বক ব্যাপার হলো- রোগটা যতনা যন্ত্রণার, তারচেয়ে মানসিক চাপ ঢের বেশি। কারণ মুখের যা অবস্থা হয়, এই মুখ নিয়ে মানুষের সামনে যেতে বিরক্তই লাগে। যে যাই বলুক ব্রণকে ঠেকানোর মতো কার্য়কর কোন ঔষধ এখনো আবিষ্কার হয়নি।তবে আপনি একটু সচেতন হলে এবং নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে সহজেই এই বিপত্তিকে প্রতিহত করতে পারবেন-

ক. ব্রণকে বাড়ানোর প্রধান হাতিয়ার হলো হাতের স্পর্শ। আপনার হাতের প্রতিটি স্পর্শ ব্রণকে করে তোলবে আরও বড়, বড়িয়ে তুলবে তীব্র যন্ত্রণা, সেই সাথে চেহারাকে করে তোলবে আরও ভয়াবহ। তাই এ রোগের প্রতিকারে প্রথমেই আপনার হাতকে রাখতে হবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। ব্রণ শক্ত হওয়ার আগে কোনভাবেই তাতে হাত লাগানো যাবে না। 

খ. ব্রণ শক্ত হয়ে দানাদার হয়ে গেলে তখন শুধুমাত্র চাপ দিয়ে দানা বের করে দিতে হবে। তারপর আবারও হাতের স্পর্শ বন্ধ। 

আপনি যদি এই বিষয়টি মেনে চলতে পারেন তবে আপনার মুখ পূর্বের রূপ ফিরে পাবে। ব্রণের দাগের কোন চিহ্নও থাকবে না। তবে অনেকেই না জানার কারণে সময়মত ব্রণের দানা বের করে দেন না। ফলে দানাগুলো চামড়ার নিচে রয়ে যায় এবং পরে এগুলোর কারণে মুখ এবড়ো-থেবড়ো এবং খসখসে হয়ে যায়। 

৬. ব্রণের দাগ দূর করার উপায়: আপনি পূর্ব থেকে সাবধান না হলে বা হাতকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নখের খোচা, চিমটি ও বার বার স্পর্শের কারণে যদি দাগ লেগেই যায় তবুও এই দাগ থেকে মুক্তি সম্ভব।তাও আবার কোনরকম ঔষধের ঝামেলা ছাড়াই। এজন্য আপনাকে শুধুমাত্র একটি কাজ করতে হবে, তাহলো- ব্রণের উৎপাত শেষ হয়ে গেলে- দিনে এক/দুইবার দাগপড়া স্থান ও তার আশপাশে কিছুক্ষণ আলতোভাবে ঘষুন। নিয়মিত এভাবে ঘষলে এক সপ্তাহের মধ্যেই ফলাফল হাতেনাতে পেয়ে যাবেন (আমি নিজে উপকৃত হয়েছি)। আপনার মনে এই প্রশ্ন আসতেই পারে- ঘষলে কিভাবে দাগ দূর হবে? তবে এর একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যাও আছে- ঘষামাজার কারণে উক্ত স্থানে রক্ত চলাচল তাৎক্ষণিক বেড়ে যায়। ফলে আক্রান্ত টিস্যুতে পর্য়াপ্ত রক্ত সরবরাহ ঘটে টিস্যুটি সেড়ে ওঠে। আবার মৃত টিস্যুগুলো অতিরিক্ত রক্ত সরবরাহের ফলে রক্তের সাথে ভেসে গিয়ে প্রস্রাবের মাধ্যমে বা্ইরে বেরিয়ে আসে। 

শেষকথাঃ উপরোক্ত সবগুলো রোগ ও সমস্যায় আমি নিজে পড়েছি এবং আমি স্বয়ং উল্লিখিত পন্থাগুলো অবলম্বন করে উপকৃত হয়েছি। আর্টিকেলের কোন বিষয়ে আপনর ভিন্ন মত থাকলে তা কমেন্ট করে জানাতে পারেন। সবশেষে সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে এখানেই লেখার ইতি টানলাম।

শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৪

যে ভুলগুলো দৈনন্দিন জীবনে ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনে



ভূমিকাঃ এমন কিছু ভুল আছে, যেগুলো আমরা বার বার সংঘটিত করে বিপদ তৈরি করে থাকলেও  তা শুধরানোর চিন্তা করি না। ফলে বার বার দুর্ভোগ পোহাতে হয়।এখানে তেমন কিছু ভুল কাজ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে সম্পুর্ণ আর্টিকেলটি পড়ে নিন।

প্রাত্যাহিক জীবনে আমাদের হরেক রকম কাজ করতে হয়।এই কাজগুলো করতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত ভুল করি এবং এই ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি। কিন্তু কিছু কিছু কাজ অভ্যাস বশত বা চিরায়ত নিয়মে করার কারণে আমরা বিপদে পড়ে থাকলেও এসব নিয়ে তেমন ভাবি না।এই আরর্টিকেলে আজ এমনই কিছু ভুল নিয়ে আলোচনা করা হবে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

টেপের পানি চেক না করাঃ 

বেশিরভাগ সময়ে টয়লেটের টেপে পানি থাকার কারণে আমরা ধরেই নেই যে, টেপে পানি থাকবেই।আর একারণেই মাঝে মাঝে তৈরি হয় বিপত্তিকর অবস্থা। টয়লেটের কাজ শেষ করে যখন টেপ ছাড়তে গেলেন, দেখলেন পানি নেই। কি এক বিধঘুটে অবস্থা! এই বিপত্তিকর ও লজ্জাজনক অবস্থা থেকে মুক্ত থাকতে চাইলে প্রতিদিন টয়লেটে ঢুকে প্রথমেই টেপ ছেড়ে পানি দেখে নিতে হবে। আর এটাকে অভ্যাসে পরিণত করে নিলে আপনাকে আর বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে না। সুতরাং সাবধান হোন এবং বিষয়টি মাথায় একেবারে গেথে রাখুন।

রান্নাঘরে দরজা না রাখা:

আমরা থাকার ঘরের জন্য মজবুত দরজা রাখলেও রান্নাঘরে কোন দরজা ব্যবহার করি না।আমাদের এই কালচারটা একেবারেই ভুল একটি প্র্যাকটিস। খাবারকে স্বাস্থ্যসম্মত এবং প্রাণির নাগাল থেকে দূরে রাখতে রান্না ঘরে দরজা রাখা খুবই জরুরী। আমাদের খাবারগুলো দীর্ঘ সময় ধরে রান্না ঘরেই থাকে। আর দরজা না থাকার ফলে ইদুর-বিড়াল আর তেলাপুকার আনাগুনা বেড়ে যায়। আর এগুলো খাবারকে নষ্ট ও অস্বাস্থ্যকর করে থাকে। তাই আমাদের খাবারকে স্বাস্থ্যকর ও শরীরকে সুস্থ রাখতে রান্নাঘরে দরাজা রাখা এবং কাজ শেষে তা বন্ধ করে রাখা জরুরী। 

দা ও বটি পরিষ্কার না রাখা:

আমাদের প্রতিদিনের ব্যবহার্য জিনিসের মধ্যে অন্যতম হলো- দা ও বটি।প্রতিদিন ব্যহার করার ফলে এগুলোকে পরিষ্কার রাখার ব্যপারে আমাদের মধ্যে এক রকম উদাসীনতা তৈরি হয়। তাই মাছ, মাংস, ইত্যাদি কাটার পর অধিকাংশ সময়ই পরিষ্কার রাখি না। ফলে শিশুরা তা দিয়ে ফলমুল বা কিছু কেটে খেয়ে ফেললে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই দা, বটি দিয়ে কাজ শেষ করার পর তা ভালভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখতে হবে।

টিউবওয়েলের হাতল পরিষ্কার না রাখা: 

প্রতিদিনের ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় বস্তুর একটি হলো টিউবওয়েল। এই টিউবওয়েলে প্রতিদিন একজন মানুষ অসংখ্যবার হাত লাগায়। তো একজনের হাতে জীবাণূ থাকলে তা সহজেই পরিবারের সকল সদস্যদের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে।কিন্তু তা অধিকহারে ব্যবহারের ফলে সেই হাতল পরিষ্কার রাখার ব্যপারে আমরা সবাই খুব উদাসীন থাকি। আর এই উদাসীনতার ফলেই পারিবারে রোগ বালাই প্রায় লেগেই থাকে। শিশুরা টয়লেট ব্যবহারের পর ভালভাবে হাত পরিষ্কার না করেই টিউবওয়েলের হাতলে হাত লাগায়। আর এই হাতল ব্যবহার করেই মায়েরা রান্নার কাজে পানি সরবরাহ করে থাকে। ফলে খাবার অস্বাস্থ্যকর ও জীবাণুযুক্ত হয়ে পড়ে। আর এই খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যগণ অসুস্থতায় ভোগে থাকে। সুতরাং এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে শিশুদেরকে সাবধান ও সতর্ক করতে হবে।টয়লেট ব্যবহারের পর ভালভাবে হাত পরিষ্কার করার জন্য পরিবারের সকল সদস্যকে সতর্ক করতে হবে,  এবং টিউবওয়েলের হাতল পরিষ্কার রাখার ব্যপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। 

ঘর্মাক্ত কাপড় সাথে সাথে না ধোয়াঃ 

কায়িক পরিশ্রমের পর আমরা অনেকেই গায়ের কাপড়গুলো ঘর্মাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখি। ফলে কাপড়ে সহজেই দিতি পড়ে যায় এবং ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। তাই কাপড়কে অধিক সময় ব্যবহার উপযোগী এবং পরিষ্কার রাখতে হলে অবশ্যই ঘর্মাক্ত কাপড় সাথে সাথেই পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। এতে কাপড়ে সহজে দিতি পড়বে না এবং পরিষ্কার থাকবে। 

গরু মহিষের রশ্মি হাতে পেচিয়ে ধরা: 

আমরা অনেক সময় গরু-মহিষকে আটকে রাখতে তার রশ্মি হাতে পেচিয়ে ফেলি। এটা মারত্মক বুকামি কাজ। কারণ এই প্রাণীগুলো ভয় পেয়ে বা যে কোন কারণে অবাধ্য হয়ে ছুটে পালাতে চাইলে পেচানো রশ্মি তাড়াতাড়ি হাত থেকে খুলে ফেলা সম্ভব হয় না, ফলে আপনি চরম বিপদে পড়ে যেতে পারেন। এই বিষয়টি মাথায় না রাখার কারনে হাত, হাতের আঙ্গুল ইত্যাদি গরুর টানের ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে মারাত্মক হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকে। 

শেষকথাঃ

লেখাটি পড়ে যদি নতুন কিছু জেনে থাকেন তবে কমেন্টে আপনার মতামত জানিয়ে দিতে পারেন। আপনাদের উৎসাহ পেলে আরও কিছু নতুন বিষয় ও চিন্তা শেয়ার করা যাবে। লেখাটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করে রাখতে পারেন। এতেকরে আপনার বন্ধুরাও জানার সুযোগ পাবে। সবশেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে এথানেই শেষ করছি। -আল্লাহ হাফেজ